সর্বশেষ সংবাদ :

ইফতারির পসরায় জীবিকার সংগ্রাম

ইবতিদা ফেরদৌস: রমজান এলেই সারা দেশের পথে-প্রান্তরে দেখা যায় বাহারি ইফতারির পসরা। কেউ স্বল্প পুঁজিতে সাময়িক ব্যবসা শুরু করেন, কেউ বা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন এই সময়ের জন্য। ঠিক তেমনই দরীক্ষরবনার মানিক মিয়া ও রহিমা বেগম এই দুই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিজেদের ইফতারির দোকান সাজিয়ে রোজগারের পথ খুঁজছেন। তাদের একটাই স্বপ্ন পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং ঈদটা একটু আনন্দময় করা।
মানিক মিয়া পেশায় দিনমজুর। বছরের অন্য সময় মাটি কাটার কাজ করলেও রমজান এলেই বদলে যায় তার জীবিকা। বিকেল হলেই তিনি বাজারের এক কোণে সাজিয়ে ফেলেন ইফতারির পসরা। বেগুন ভাজি, আলুর চপ, রসুনের চপ, পিয়াজি, ধনের চপসহ নানা ধরনের মুখরোচক খাবার থাকে তার দোকানে।
সারা বছর কষ্ট করি, কিন্তু এই রমজান মাস আমার জন্য আশীর্বাদ। এই এক মাস ব্যবসা ভালো হলে ঈদটা একটু ভালোভাবে কাটাতে পারি,বলেন মানিক মিয়া।
তিনি আরও বলেন, আমি চেয়েছিলাম ছোটখাট একটা খাবারের দোকান দিতে, কিন্তু টাকার অভাবে পারিনি। তাই প্রতি বছর রমজান মাস আসলেই চেষ্টা করি কিছু টাকা জমানোর। যদি আল্লাহ চায়, একদিন হয়তো নিজের একটা স্থায়ী দোকান হবে।
স্থানীয়রা জানান, মানিক মিয়ার হাতের তৈরি ইফতারি খাবার একেবারে ঘরের মতো। তার দোকানে প্রতিদিনই ভিড় লেগে থাকে।
একজন নিয়মিত ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, মানিক ভাইয়ের ইফতারির স্বাদ খুব ভালো। দামও সাধ্যের মধ্যে। তাই আমরা প্রতিবছর তার দোকান থেকেই কিনে থাকি।
মানিক মিয়ার মতোই রহিমা বেগমও বসেছেন ইফতারির পসরা নিয়ে। তবে তিনি একজন গৃহিণী। সংসারের বাড়তি খরচ জোগাতে এবং পরিবারের জন্য ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করতে এই ব্যবসা শুরু করেছেন।
তার দোকানের বিশেষত্ব হলো, ভাজা-পোড়ার পাশাপাশি তিনি হালিমও তৈরি করেন। তার দোকানে পাওয়া যায় সুস্বাদু হালিম, সঙ্গে বেগুন ভাজি, আলুর চপ, পিয়াজি, চিংড়ির পাকোড়া, আর নানা স্বাদের পিঠা।
রহিমা বেগম বলেন, সংসারের সব খরচ তো স্বামী একা চালাতে পারেন না। তাই ভাবলাম, রমজান মাসটা কাজে লাগাই। ছোট্ট পরিসরে হলেও আল্লাহর রহমতে ভালো বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি মানুষ আমার হালিম খেতে আসে। আমার নিজের হাতে বানানো হালিম যারা একবার খায়, তারা আবার আসে। এতে আমার খুব ভালো লাগে। রমজানের আয় দিয়ে আমি ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন জামা কিনতে পারব এই ভাবনাটাই শান্তি দেয়।
মুজাহিদ ইসলাম নামে একজন ক্রেতা বলেন, রহিমা আপার বানানো হালিম অনেক সুস্বাদু। মনে হয় যেন বাসার তৈরি খাবার খাচ্ছি। অন্য দোকান গুলোতে চপ গুলো আগে থেকেই ভেজে নিয়ে আসে কিন্তু রহিমা আপা গরম ভেজে দেয় সব কিছু।
মানিক মিয়া ও রহিমা বেগমের মতো অনেকেই রমজান মাসে এই ছোটখাট ব্যবসা শুরু করেন, যার মাধ্যমে তারা পরিবারকে একটু স্বস্তি দিতে চান।
তাদের একটাই স্বপ্ন এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ একদিন বড় হবে, তারা সারা বছর নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন। রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালায়। ঈদকে ঘিরে তাদের এই প্রচেষ্টা যেন সত্যিই তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, সেটাই সবার কাম্য।


প্রকাশিত: March 8, 2025 | সময়: 2:50 am | সুমন শেখ