সর্বশেষ সংবাদ :

বৈষম্যবিরোধী কমিটিতে হারানো পদ ফিরে পেতে মরিয়া সেই মেরাজ

আদমদীঘি প্রতিনিধি: বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হারানো পদ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ছাত্রলীগ করা বহিষ্কৃত সেই মেরাজ হোসেন। গত মঙ্গলবার তাকে বহিষ্কার করার পর পুনরায় তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে দলে ফেরার চেষ্টা করছেন। ফলে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া।
জানা যায়, গত ৫ বছর ধরে আদমদীঘি উপজেলা ছাত্রলীগ ও সান্তাহার পৌর ছাত্রলীগের কমিটি বিভিন্ন কারণে স্থগিত করা হয়। যার ফলে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়। কমিটির পদ পেতে জনপ্রিয়তা অর্জণের জন্য মাঠে কাজ করতে শুরু করে রবিন গ্রুপ ও সাকিব গ্রুপ।
অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃত আনছার আলীর ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী মারুফ হাসান রবিন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান মন্টির ছেলে সান্তাহার কলেজ শাখার সভাপতি প্রার্থী ইরামের সঙ্গে দল করতেন মেরাজ হোসেন। দলীয় সকল ছাত্রলীগ ব্যানারে প্রোগ্রামে যেতেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত কয়েকবছর ধরে ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন সান্তাহার কলেজের ছাত্র মেরাজ। এভাবে দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে একই ব্যানারে কার্যক্রম করে আসছিলেন।
ফলে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হওয়া মাত্র তাকে ভালো একটি পদে রাখা হবে বলে মন্তব্য করেন ছাত্রলীগের দায়িত্বরতরা। কিন্তু ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর উল্টে গেলে দেশের পেক্ষাপট। ছাত্রলীগ দল পরিবর্তন করে তিনি সুবিধা ভোগ করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন। দলের উদাসিনতার কারণে যাচাই বাছাই ছাড়াই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বগুড়া শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব পদে মেরাজকে রাখা হয়। ক্ষমতার দাপটে শুরু হয় নিজ এলাকায় তার তান্ডব। এই কমিটির আদমদীঘির কিছু সদস্যরা তার আচরণে অনেকটা বিব্রত হয়ে পড়েন।
এদিকে ২০২৩ সালে সান্তাহার কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে তার নামে উপ পাঠচক্র সম্পাদক পদে রাখা হলেও কিন্তু তার দাবী এটা তিনি নয়। তাছাড়াও দলীয় সকল প্রোগ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেব সংসদ সদস্য কছিম উদ্দিন আহমেদ ও ছাত্রলীগের সকল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাকে দীর্ঘদিন কাজ করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সহ অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বগুড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে স্বস্তি ফিরে দলটিতে।
এদিকে তিনি পুনরায় পদ ফিরে পেতে বিভিন্ন কলা কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে জানা যায়। যারফলে সম্মুখ সারির বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, মেরাজ আমাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিলো। দল পরিবর্তনের সঙ্গে সেও নিজেকে পরিবর্তন করেছে। দলীয় প্রোগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্রলীগ রবিনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরদের সাথে কাজ করতো। পরে বগুড়া জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটিতে তার নাম কিভাবে গেলো এটা দেখে সকলে হতবাক হয়েছে।
সচেতন নাগরিক আব্দুল হালিম ও এনামুল হক জানান, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন করে পুনরায় দেশকে স্বাধীন করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও জনতা। দেশের জন্য তাদের অনেক অবদান রয়েছে। অথচ এসব বিতর্কিত লোকজনের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। দলকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিতর্কিতদের এড়িয়ে চলতে হবে। ফলে বৃদ্ধি পাবে বৈষম্যবিরোধী দলটির সুনাম।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বগুড়া জেলার মূখ্য সংগঠক আজিম উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগ সহ ১৪ দলীয় কারও সঙ্গে আমার কোন আপোষ নাই। আর এদের ছত্রছায়ায় বা বিতর্কিত রয়েছে তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আর মেরাজকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: February 23, 2025 | সময়: 6:09 am | সুমন শেখ

আরও খবর