বাঘায় গম চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নুরুজ্জামান, বাঘা:

রাজশাহীর বাঘায় চলতি মৌসুমে গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তারা বলছেন, সরকারি ভাবে এবার গম উৎপাদন,সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত বীজ,সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও তুলনা মূলক ভাবে অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে গমের বাজার মূল্য ভালো হওয়া-সহ সার-কীটনাশক ও সেচ কম লাগায় অত্র উপজেলার চাষিরা এবার গম চাষে ঝুকে পড়েছেন।

 

 

তাঁদের মতে, এখন পর্যন্ত অবহাওয়ার যে অবস্থা , তাতে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ দেখা না দিলে এ বছর উপজেলার প্রতিটি এলাকায় প্রচুর পরিমানে গম উৎপাদন হবে।

 

 

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তন সূত্রে জানা গেছে , এ বছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা মিলে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের গম রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে হেক্টর প্রতি উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে চার মেট্রিক টন। এ সকল উৎপাদিত গমের মধ্যে নতুন জাত হিসাবে ডাব্লিউ এম.আর.আই ৩, ডাব্লিউ এম.আর.আই ৪, সোনালী, প্রদীপ, বিজয়, শতাব্দী, সৌরভ, গৌরব ইত্যাদি উল্লেখ-যোগ্য।

তবে এ বছর নতুন জাত-সহ প্রদীপ ও বিজয় জাতের গম সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কৃষি বিভাগ। এর কারণ হিসাবে তারা জানান, পুরাতনের মধ্যে প্রদীপ গমের শিষ বড় এবং দানা মোটা হওয়ায় কৃষকরা এই গম চাষে বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এর পরে রয়েছে বিজয় এবং শতাব্দী। তবে সোনালী গম বিগত সময়ে ব্যাপক হারে আবাদ হলেও বর্তমান এর উৎপাদন একেবারে কমে গেছে বলে তারা উল্লেখ করেন তারা।

 

সরেজমিন উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, ওই অঞ্চলের কৃষকরা অনেকেই গমে সেচ দিচ্ছেন। পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষক করিম শেখ বলেন, তিনি ইতোমধ্যে তার ৫ বিঘা জমির গমে সেচ দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন এ বছর যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে বিঘা প্রতি ২০-২৫ মন হারে গম উৎপাদন হবে।

 

তিনি বলেন, গত বছর আবহাওয়া অনুকূল ছিল। একই সাথে সার ও সেচের কোন সমস্য হয়নি। তবে গমের বাজার ছিল অনেকটায় খারাপ। এ দিক থেকে এ বছর গমের বাজার ভাল রয়েছে। এ ছাড়াও বাজারে চাউলের দাম বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় তিনি সহ অত্র অঞ্চলের অনেক কৃষকই এ বছর গম চাষের দিকে বেশি যত্নবান হয়েছেন।

 

এ দিকে উপজেলার সমতল এলাকার বাউসা ও বাজুবাঘা ইউনিয়ন এবং আড়ানী পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মাঠে ব্যাপক পরিমান গমের চাষাবাদ হচ্ছে। বাউসা এলাকার জিল্লুর রহমান বলেন, যদি সরকার সারের দামটা একটু কমাতে পারতেন তাহলে শুধু গম কেন, যে কোন ফসল উৎপাদনে কৃষকরা অনেক বেশি আগ্রহী হতেন। তার মতে, বর্তমানে সার ও ডিজেলের দাম বাড়ার করনে অনেকেই কৃষি আবাদে লোকসান গুনছেন। একই কথা বলেন, আমোদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও চন্ডিপুরের তোফাজ্জল হোসেন ।

 

সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাঘার মাটি যে কোন ফসলের জন্য মারাত্নক উপযোগী। শুধু মাত্র দরকার একটু পরিচর্যা। তাঁর মতে, অবহাওয়া অনুকুল থাকলে এ বছর প্রতিটা মাঠে কৃষকরা যে হারে গম রোপন করেছেন তাতে করে বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমান গম উৎপাদন হবে।

 

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে কৃষির সাথে অত্র উপজেলার অনেক শিক্ষিত তরুণ যুবকরা সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে এখানে বেশ কয়েকটি পলিনেট হাউজ তৈরী হয়েছে। এর ফলে শীতের সবজি গরমে এবং গরমের সবজি শীত মৌসুমে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি বিদেশে ফল ও ক্যাপসিকাপ (মিষ্টি) মরিজ-সহ হরেক রকম ফসল উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে।

সানশাইন/রাজ


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫ | সময়: ৪:০৩ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর