, , ।
নুরুজ্জামান, বাঘা:
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিনে-দিনে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। মশার উপদ্রব বাড়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। এর ভয়াবহতার চিত্রটি বোঝা যাচ্ছে হাসপাতালের ওয়াডে প্রবেশ করলে। যার ব্যত্বয় ঘটেনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও । তবে এটি প্রতিরোধের জন্যে এখানে নেই কোন মশক নিধনের ব্যবস্থা। পৌর সভায় একটি মেশিন থাকলেও বর্তমানে সেটি অকার্যকর বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই রোগে মারা গেছেন ১৭০ জন। এর আগে ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু কখনও হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এর আগে ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। হাসপাতালের মেঝেতে পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা। সে বছর সর্বোচ্চ ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্ত হলেও মৃত্যু হয়েছিল ১৬৪ জনের। তবে এ বছর নভেম্বর মাসে প্রকোপ কমে আসার কথা বলা হলেও প্রতিদিনই সারা দেশে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। আর এরসঙ্গে মৃত্যু তো আছেই। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২০-২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে এ বছর। অক্টোবর মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ২২ হাজার মানুষ। এরমধ্যে গত মাসেই মারা গেছেন ৮৬ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৭০ জন। তার মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মারা গেছেন ৯ জন। তাঁদের দেয়া তথ্য মতে, দেশের ৫৭টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে এডিস মশার কামড়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে, বিশেষায়িত এই প্রতিষ্ঠানটির নেই কোনো নিজস্ব কার্যক্রম। প্রায় ২১১ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী থাকলেও কিছু কর্মচারীকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন। বাকিদের বেতন-ভাতা দেয়া ছাড়া যেন কোনো কাজ নেই।
তাঁরা আরো জানান, নিজস্ব ভবন ও পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দপ্তরটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ সংক্রান্তে সম্প্রতি ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় পিন্ট পত্রিকার প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে।
এদিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, দিন-দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করাতে আসা স্বজনরাও অনেক সময় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ রোগের উপসর্গ বিষাক্ত মশার কামড় থেকে সৃষ্টি। তবে মশক নিধনের জন্য হাসপাতালে নেই কোন ফগার মেশিন। বাঘা পৌর সভায় একটি মেশিন থাকলেও গত দুইমাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এর দেখা মেলেনি। একই কথা বলেন, বাঘা পৌর এলাকার মানুষ।
বাঘা পৌর কর্তৃপক্ষ জানান, মেশিনটি নষ্ট হওয়ার কারনে মেরামত(ঠিক) করতে দেয়া হয়েছে। এটি ঠিক হয়ে এলে, পৌর এলাকায় মশক নিধনে আগের ন্যায় ব্যবহার করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে রামেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, মশা একটি চিহ্নিত শত্রু। কিন্তু তার পরও কেন মশা মারা হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। অবৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার কারণে ইতোমধ্যে মশা প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। ওষুধেও যেন কাজ হচ্ছে না। মরছে না মশা।
তাঁরা আরো বলেন, কোনো রোগী হাসপাতালে এলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না। তবে মশা না মারলে, সামনে রোগী আরো বাড়বে। সীমিত জনবল দিয়ে কতক্ষণ ডেঙ্গু রোগীদের সামাল দেওয়া যাবে, তা এখন কেবল ভাবার বিষয়।