, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা এলাকার দুটি কিচেন মার্কেটের নামে বরাদ্দকৃত দোকান মালিকদের কাছ থেকে জামানত নিলেও দোকান বুঝে দিচ্ছে না চারঘাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
চারঘাট পৌর মেয়র একরামুল হক গত ৫ আগষ্ট থেকে আত্মগোপনে থাকায় পৌরসভার হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা বাচ্চুর দাবি মেয়র ছাড়া কেউ জানেন না জামানতের টাকার হদিশ। তবে বরাদ্দকৃত দোকান মালিকদের দাবি পৌরসভার মেয়র একরামুল ছাড়াও এ টাকা হিসেবরক্ষন কর্মকর্তা বাচ্চু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের টাকা আত্মসাত করার পায়তারা করছেন। এ দিকে দোকানঘর বরাদ্দে লিখিত চুক্তিপত্রে উল্লেখ নেই জামানতের টাকার। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছেন বরাদ্দকৃত দোকানঘর মালিকরা।
পৌরসভা সুত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চারঘাট পৌর বাজারে ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় ও সরদহ বাজারে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় ১১৫টি দোকান নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাজি সময়ে দুটি কিচেন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে ১০৬টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। দোকানপ্রতি ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ১০৬ টি দোকানের বিপরীতে জামানত বাবদ মোট ৮৬ লাখ টাকা আদায় হয়। আদায়কৃত টাকা দোকানঘর নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও বরাদ্দকৃত দোকানঘর মালিকদের দাবি পজিশন অনুযায়ী কারো কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, আবার কারো কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও আদায় করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
দোকানঘর ছাড়াও সবজি বিক্রেতা ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে আদায় করা হয়েছে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। চারঘাট ও সারদা দুটি কিচেন মার্কেট থেকে ১০৬ টি দোকানের বিপরীতে এভাবে আদায় করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। যার কোন হদিশ মিলছে না পৌরসভার হিসেবরক্ষণ কর্মকর্তার দপ্তরে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দুটি কিচেন মার্কেটের ১০৬টি দোকানঘর চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছে বরাদ্দ দেয় পৌরসভা র্কর্তৃপক্ষ। চুক্তিপত্রে মেয়াদ তিন বছর উল্লেখ থাকলেও জামানত বাবদ আদায়কৃত টাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি চুক্তিপত্রে। এসব আদায়কৃত জামানতের টাকা পৌরসভার মেয়র একরামুল হক পৌরসভার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা বাচ্চুর সহযোগিতায় পুরো টাকায় আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
এ বিষয়ে চারঘাট পৌরসভার হিসেবরক্ষণ কর্মকর্তা বাচ্চুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ কা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। দোকানঘর বরাদ্দের জন্য একটি কমিটি করা হয়। এছাড়া এ বিষয়ে একটি একাউন্ট খোলা হয়। জামানতের টাকা মেয়র ও কমিটি জানে। টাকা আত্মসাতের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন হিসেবরক্ষণ কর্মকর্তা বাচ্চু।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ১০৬টি দোকানের বিপরীতে জামানত বাবদ ৮৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছিল। আদায়কৃত টাকা মার্কেট নির্মাণে খরচ করা হয়েছে। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিমের।