মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় : ঈশ্বরদীতে অপহরণের ৭ দিন পর বৃদ্ধের অর্ধগলিত মহদেহ উদ্ধার

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা চাওয়ার ৭ দিন পর অপহরণ হওয়া সিরাজুল ইসলাম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ঈশ্বরদী শহরের রহিমপুর গোরস্থান সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়ির বাথরুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সিরাজুল ইসলাম ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের কৈকুন্ডা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল ফকিরের ছেলে ও নির্মাণাধীন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

নিহতের ছেলে আল-আমিন হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ আগষ্ট রাতে রূপপুর প্রকল্পের ডিউটি শেষ করে তার বাবা আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার বাবার মুঠো ফোন থেকে কল দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে অপহরণের কথা বলে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়। টাকা না দিলে তার বাবাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হবে বলেও জানানো হয়। পরের দিন পরিবারের স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন করা হয়।

 

মরদেহ উদ্ধার হওয়া বাসার মালিক বলবুল হোসেন জানান, গত ২২ আগষ্ট অজ্ঞাত দু’জন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাড়ির ৪র্থ তলা ভাড়া নেন। একদিন পর ২৪ আগষ্ট আমি তাদের বাসায় গিয়ে অগ্রীম ভাড়া বাবদ ৪ হাজার টাকা ও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে আসি। এরপর গত ২৮ আগষ্ট থেকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই দম্পতির নেওয়া বাসার দরজা তালা লাগানো ছিল। শুক্রবার রাতে ওই ভাড়াটিয়ার কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। শনিবার সকালে স্থানীয়দের পরামর্শে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে নিহতের লাশ সনাক্ত করে। জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য মতে ঐ ভাড়াটিয়ার নাম শাজাহান আলী, সে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা (তেতুলতলা) গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে।

 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, নিহত সিরাজুল নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তদন্তে নেমেছিলো। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকালে অজ্ঞাত একজনের লাশের সন্ধান পাওয়ার খবরে ঘটনাস্থলে এসে অপহরণকৃত বৃদ্ধ সিরাজুল ইসলামের লাশ সনাক্ত করা হয়। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৪ | সময়: ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর