মোহনপুরে নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর এক নারীর নামে উপকারভোগী কার্ড করে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ চক্র চাল উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত সেই ইউপি সদস্যের নাম খালেদা বেগম। তিনি মোহনপুর উপজেলার ৫ নং বাকশিমইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। ভিডব্লিউবি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বাকশিমইল ইউপি সদস্য খালেদা বেগমের বিরুদ্ধে কবিতা আক্তার এর শ^শুর আলিমুদ্দিন এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে ৩৪৯ জন ভিডব্লিউবি কার্ডের সুবিধাভোগী রয়েছেন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতি মাসে তারা ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন।
হতদরিদ্রদের নামের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যাচাই বাছাইয়ের পর গত জানুয়ারিতে মহিলা অধিদপ্তরে পাঠান। ওয়েবসাইটে ৫১ তালিকায় নম্বর থাকলেও ভুক্তভোগী কোনো চাল পাননি, গত ১৮ মাসে যাবত।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৯৬ টি ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকশিমইল ইউনিয়নে বরাদ্দ কার্ডের সংখ্যা ৩৪৯টি। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এসব সুবিধাভোগীরা পুষ্টি চাল পাচ্ছেন। তারা মোট ২৪ মাস এ সুবিধা পাবেন।
বাকশিমইল ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খালেদা বেগম ২০২১ সালে সইপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিন স্ত্রী কবিতা আক্তারের কাছ থেকে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভিডব্লিউবি একটি কার্ড করেন। ইউপি সদস্য খালেদা বেগম ওই কার্ড কবিতা আক্তারকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি কার্ডটি কবিতাকে না দিয়ে আঠারো মাস ধরে ওই কার্ড দিয়ে চাল তুলে তা আত্মসাৎ করেন।
গত ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার হঠাৎ ওই কার্ড দেন। আঠারো মাস পর কার্ডটি পেয়ে কবিতা দেখেন ইউপি সদস্য নিজেই স্বাক্ষর দিয়ে তার নামে বরাদ্দ দেওয়া ৫৪০ কেজি চাল ওই ইউপি সদস্য তুলে নিয়েছেন।
তবে ভিডব্লিউবি কার্ড আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন বাকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য খালেদা বেগম বলেন চাল কবিতার পরিবারে সদস্যরা উত্তোলন করেছেন।
মোহনপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বন্দনা সাহা বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান যাচাই বাচাই করে সুবিধাভোগীর তালিকা অফিসে জমা দিয়েছেন। সঠিকভাবে যারা তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের নাম এখনো ওয়েবসাইটে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিডব্লিউবি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হলেন ইউএনও স্যার। তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কবেন।’
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়শা সিদ্দিকা ও ভিডব্লিউবি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আয়শা সিদ্দিকা জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বা অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৪ | সময়: ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর