বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: শনিবার রাত ২টা। রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় ফুটপাতে বসে আছেন পনেরো থেকে বিশ জন মানুষ। তারা প্রত্যেকেই ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা কর্মচারী। তারা ডাকাত আতঙ্কে বা হামলার ভয়ে দিনের ব্যবসা শেষে প্রতিষ্ঠানের বাইরে তালা লাগিয়ে দিয়ে , রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তাদের প্রতিষ্ঠান
গত ৫ আগস্টের পর থেকে রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। এরই মধ্যে অন্তত শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানায় ব্যবসায়ীরা।
ওই এলাকার একটি কম্পিউটার দোকানের মালিক রিঙ্কু হাসান বলেন, আশে-পাশের বেশ কয়েকটি দোকান পাট ভাংচুর ও লুট-পাট করা হয়েছে। রাতে ডাকাত পড়ছে, চুরি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এসবের প্রথম টার্গেটই করা হচ্ছে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। যার কারণে আমরা গত ৬ আগস্ট থেকে রাত জেগে দল বেধে লাঠি-বাঁশি হাতে নিয়ে দোকান পাহার দিচ্ছি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, গত ৫ আগস্ট কাদিরগঞ্জ এলাকায় স্পার্ক গিয়ার নামের একটি শো-রুমে হামলা হয়েছে। নিউ মার্কেট এলাকায় থিম ওমর প্লাজায় ব্যপক ভাবে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। গত ৫ ও ৬ আগস্ট পর পর দুদিন ওই মার্কেটে হামলা হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট রাতে পাশেই বেলদারপাদা ও রানীবাজার এলাকার কয়েকটি বাড়িতে হানা দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও হামলা হয়েছে নগরীর শতাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে। এর ফলে আতঙ্কে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা দিনে ব্যবসা শেষে রাতে দোকান-পাট বন্ধ করে বাসায় গিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। দোকান পাট চুরি, ডাকাতি বা হামলার ভয়ে রাতজেগে লাঠি-বাঁশি হাতে নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সঙ্গে থাকছেন দোকানে কর্মচারী বা আত্মীয়-স্বজনরা।
নগরীর নিউমার্কেট হকার্স মার্কেটের কর্মচারী বাদশা মিঞা বলেন, সারাদিন দোকানে ব্যবাসা করে রাতে গিয়েও বাড়িতে ঘুমাতে পারছি না। কোনো মতে রাতের খেয়েই আবার দোকানের সামনে আসতে হচ্ছে হামলা বা লুট-পাটের ভয়ে। অধিকাংশ বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনে পাহারা বসাচ্ছেন। ফলে অনেক লোক জমায়েত হচ্ছে রাতে। এতে করে কোনো ডাকাত বা চুরির ভয় থাকছে না। কিন্তু এভাবে কতদিন পাহারা দিয়ে রাখা যায়? প্রশ্ন করেন বাদশা মিঞা।
দরিখরবোনা এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী রিপন আলী বলেন, গত ৫ আগস্টের পর অনেক প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। লুট-পাট হয়েছে। হামলা বা লুট-পাটের ভয়ে আমরা রাতে দোকান পাহারা দিচ্ছি। এই ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে আমার আর কিছুই থাকবে না। তাই রাতের ঘুম হারাম করে পাহারা বসাচ্ছি। আশে-পাশের অনেক দোকান মালিক পাহারা বসাচ্ছে। ফলে চোর বা ডাকাতরা রাতে আর হামলা করার সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু এরকম অবস্থা আগে কোন দিন দেখিনি, এমন পরিবেশ কোন দিনও ছিল না।
রাকিব হাসান নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, রাজশাহী নগরীতে কোন দিনও এমন পরিবেশ বিরাজ করেনি। দেশে যে অবস্থায় থাকুক না কেন নগরীর ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্ট থেকে আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে রাতে পুলিশ পাহারা না থাকায়।