, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাজার থেকে প্রায় এক মাস আগে আল-আমিন (২৬) নামের এক কলেজ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। বন্ধু-বান্ধব, আত্বীয়-স্বজনের বাড়িতে সন্ধান করে না পেয়ে গত ১২ জুলাই থানায় সাধারণ ডায়রী করে আল-আমিনের বড় ভাই মীর আমির হামজা। কিন্তু তারপরও আল আমিনের কোন সন্ধান মেলেনি।
এ অবস্থায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে শনিবার বনপাড়া পৌর এলাকার সর্দার পাড়া ভাড়া বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিনের ছেলে আব্দুল্লাহ (৩), স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা, মা মেহেরুন বেগম, ভাই আমির হামজা ও মামা শশুর সবুজ আলী উপস্থিত ছিলেন।
আল-আমিন লালপুর উপজেলার কদিমচিলান গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নান মীরের ছেলে ও নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি মা, ভাই, ভাবী, স্ত্রী সন্তান নিয়ে বনপাড়া পৌর এলাকার সর্দার পাড়ার সাইফুল ইসলামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তেব্যে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা বলেন, আল-আমিন নাটোর সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজের রসায়ন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনির টাকায় সংসার চালাতো। গত ৪ জুলাই বিকেলে টিউশনির জন্য বের হয় আল-আমিন। তারপর থেকে আল-আমিন হোসেন কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মেবাইল নাম্বারে কল দিলে কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়রী করা হলেও পুলিশ তার কোন সন্ধান দিতে পারেনি। একমাত্র ছেলে বারবার বাবাকে দেখতে চায়। আমি এই অবুঝ শিশুকে কিভাবে বোঝাব তার বাবার খোঁজ নেই।
আল-আমিন হোসের মা মেহেরুন বেগম বলেন, আল-আমিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। কোন রাজনৈতিক দলের কোন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিল না। হঠাৎ করে একজন মানুষ এভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় তা আগে কখন কল্পনাও করি নাই।
বড় ভাই আমির হামজা বলেন, লিখিত অভিযোগসহ আমরা পুলিশ, র্যাবের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোন সমাধান পাচ্ছি না। আমার ভাই জীবিত না-কি মৃত তাও জানি না।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরল মুরমু বলেন, আল-আমিনের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ইন্টারনেট জটিলতায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি তার সন্ধান পাওয়া যাবে।