, , ।
মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার অসুস্থ প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজের ব্যবহৃত ফোন নাম্বার দিয়ে আবেদন করেও তারা ভাতার টাকা পাচ্ছেন না। তাদের টাকা প্রতারণা করে অন্য নাম্বারে নিচ্ছেন একটি চক্র। সমাজসেবা অফিস সংশ্লিষ্টরা মোবাইল নাম্বার চেঞ্জ করে এমন প্রতারণা করছেন বলেও অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসুস্থ প্রতিবন্ধীদের ১০ হাজার ২ শত টাকা ভাতা প্রদান করছে সরকার। আর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে কেবল যারা অসহায় ও অসুস্থ বা কঠিন দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছেন তারাই পাচ্ছেন চিকিৎসা সেবার সহায়তার ভাতা। অসুস্থ ব্যক্তি কিন্তু তার চিকিৎসা খরচের জোগাড় নেই এমন ব্যক্তির বাইরে ভাতা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তারা একটি চক্রের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কেননা তাদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা সরকার ঠিকঠাক দিলেও তা পাচ্ছেন অন্য কেউ।
জানা গেছে, উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার ফুলশো গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ছেলে মোমিনকে দিয়ে চিকিৎসার কাগজপত্র পাঠিয়ে ভাতার আবেদন করেন। এরপর তাকে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে একটি পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। নির্ধারিত সময় পার হলে তিনি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন।
সমাজসেবা অফিস জানায়, তিনি টাকা পেয়েছেন। এরপর তিনি সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তাকে টাকা পাননি জানালে কাগজপত্র ঘেটে তারা জানায় টাকা অন্য এক বিকাশ নাম্বারে ঢুকে গেছে। এর কারণ জানতে চাইলে ভুক্তভোগীর সাথে খারাপ আচরণ করেন সমাজসেবায় কর্মরত স্টাফরা।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মতিউর থানা পুলিশের দারস্থ হলে জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দকৃত টাকা চলে গেছে পার্শ্ববর্তী ধুরইল ইউপির অন্যকারো বিকাশ একাউন্টে। ঐ ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে সে টাকা পাওয়ার বিষয়টি প্রথমে শিকার করলেও পরবর্তী ফোন নাম্বারটি অনবরত বন্ধ পাওয়া যায়।
সম্প্রতি এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন একই এলাকার আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী। বাকশিমইল ইউপির মহানগর গ্রামের মমতাজ বিবি ও সাহিনা খাতুন। তাদেরও এ একই হাল। ঠিকঠাক আবেদন করে কাগজপত্র জামা দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা টাকা পাননি। সেই টাকা পান অন্য কেউ। এমন কয়েকটি অভিযোগ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আসলে তারা ফোন নাম্বারটি পরিবর্তনের আবেদন করতে বলে একটি আবেদন ফরম হাতে ধরিয়ে দিয়ে তা পুরন করে আনতে বলেন। তবে অন্য নাম্বারে চলে যাওয়া টাকা ভুক্তভোগীরা আর ফেরৎ পাননি।
এমনকি সে বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সমাজসেবা সংশ্লিষ্টদের। এক উপজেলায় অন্তত বেশ কয়জন ভাতাভুগি এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা এর থেকে পরিত্রাণ চেয়েছেন।
এঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হাসান শামীম বলছেন, যেসব নম্বর সঠিক নয় বলে ভাতাভোগীরা দাবি করছেনÑ সেসব নম্বরের ট্রানজেকশন বন্ধ রাখা হয়েছে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। কিছুদিন পর সে টাকাগুলো প্রকৃত ভাতাভোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির সহায়তায়। তবে আমরা মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে ভুল নাম্বারে চলে যাওয়া টাকা ভুক্তভোগীরা ফেরত পাবে। ১৪ হাজার ভাতাভুগির ফোন নাম্বার তুলতে গিয়ে হয়তো ২-১ টা ভুল হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬-৭ টা অভিযোগ এসেছে।
এছাড়াও হ্যাকাররা ফোন নাম্বার হ্যাক করে নাম্বার চেঞ্জ করে ফেলছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান। অনেকক্ষেত্রে আবেদনের সময় নাম্বার ভুল করা হচ্ছে। যারা আবেদন করে দিচ্ছেন তারা এ কাজে জড়িত বলে ধারনা করা হচ্ছে।