, , ।
আসাদুজ্জামান মিঠু, মুণ্ডুমালা: রাজশাহীতে জমে উঠেছে কোরবানির হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে বেড়েছে। ঈদ যতোই সামনে আসবে ততোই জমবে হাট। এবার হাটে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি।
রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গরুর হাট সিটি বাইপাস। বুধবার সেখানে হাট ছিল। সকালে থেকেই আশেপাশের এলাকা থেকে গরু আসতে শুরু করে। দুপুর হতে হতে হাট ভরে যায় গরুতে। গরু’র ক্রেতা ও বিক্রেতার ভিড়ে যেন তিল ঠাঁই আর নাই।
সরজমিনে দেখা যায়, হাট ভর্তি খামারিদের গরুতে। ভারতীয় গরু নেই বললেই চলে। ক্রেতাদের পছন্দের প্রথম সারিতে আছে দেশি ছোট গরু। বড় গরুর চাহিদা এবার কম। দুরের ব্যবসায়ীরা বড় গরুগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দুরে। যারা কোরবানির লক্ষ্য নিয়ে এসেছেন তারা খুঁজছেন ছোট গরু। মাঝে মাঝে কিছু মহিষও চোখে পড়ে।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে গরু মাংস বিক্রি হয় ৭৫০ টাকা কেজি। এই হিসেবে গরু ৩০ হাজার টাকার আসেপাশে মন ধরে কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছেন তারা।
বুধবার সিটি হাটে ছোট সাইজের গরু (৭০-৮০ কেজি) গরু বিক্রি হচ্ছে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। মাঝারি সাইজের গরু (৯০-১২০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। বড় সাইজের গরুগুলোর নির্ধারিত কোন লক্ষ্য থাকছে না। মাংসের সঙ্গে সৌখিনতাও যোগ হচ্ছে। এরপরেও বড় গরু (২০০-২৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ৬০ হাজার থেকে শুরু করে দুই লাখ ২০ হাজার পর্যন্ত।
সিটি হাটে গরু কিনতে এসেছিলেন নগরীর শেখ পাড়া এলাকার হাসান ইমাম। তিনি জানান, কয়েকদিনে আশেপাশের কয়েকটি হাট ঘুরেছি। দামে পেরে উঠতে পারেননি তিনি। তিন থেকে সাড়ে তিন মন সাইজের গরু খুজছেন তিনি।
নগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকার রেদওয়ানুল হক জানান, কয়েকদিন ধরে গ্রামে গ্রামের ঘুরেছি গরু কেনার জন্য। প্রতি বছরই গ্রামে ঘুরে খামার থেকেই গরু কেনেন তিনি। কিন্তু এবার কিনতে পারিনি। হাটে আসতে তার ভালো লাগে না। এরপরেও সিটি বাইপাস হাটে এসেছেন তিনি।
এ হাটে গরু বিক্রি করতে এসেছিলেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মাসুদ রানা। তিনি বলেন, বাড়িত তিনড়া গরু পালছিনু। লাভের আসার হাটে লিয়ে আলছি। মানুষ দাম করিত্তে না। দেখি কি হত্তে।
সোমবার তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পশু হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরুর দাম এবার গতবারের চেয়ে বেশি। ষাঁড়ের তুলনায় বকনা ও গাভীর দাম কম। গ্রামের অনেকে এবার বকনা গরুর উপর ঝুঁকেছে বেশি।
এদিকে গরুর পাশাপাশি ছাগলের দামও বেশি। চলতি বছর ১০ হাজার টাকার নিচে কোন ছাগল মিলছেনা। ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি ছাগল বেচাকেনা হচ্ছে।
রাজশাহীর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে গতবারের চেয়ে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেড়েছে। জেলায় চার লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬টি পশু প্রস্তুত আছে। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে সাড়ে ১৭ হাজার খামারে ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে এবার পশু লালন-পালন করা হয়। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৩৬৫টি গরু, তিন হাজার ৭৬৯টি মহিষ ও তিন লাখ ৪২ হাজার ৭৫৩টি ছাগল রয়েছে। গত বছর জেলায় ৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৭টি পশু কোরবানি করা হয়। এবারও কোরবানির পশুর চাহিদা একই রয়েছে। ফলে বর্তমানে জেলায় চাহিদার তুলনায় এক লাখ ৪১ হাজার ২১৯টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। কোরবানির আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান বলেন, সপ্তাহে রোববার ও বুধবার সিটি হাট বসে। তবে কোরবানি উপলক্ষে আগামী কয়েকদিন প্রতিদিনই হাট বসবে। ক্রেতাদের জন্য আমরা দালালমুক্ত পরিবেশ দেয়ার চেষ্টা করছি।’
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলফিকার আখতার হোসেন জানান, রাজশাহীতে বিগত বছরের তুলনায় এবারও কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে রাজশাহীতে। তবে এবার যেহেতু উৎপাদন খরচ বেশি, দামও কিছুটা বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।’