, , ।
পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার গাছ যেন এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি। দিন দুপুরে প্রকাশ্যে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো মাথাব্যথা নেই। গত এক মাসে উপজেলার জিউপাড়ায় দুই ইউনিয়নে দুই স্থানে দুই দফায় ১৪ টি বড় বড় সরকারি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ ঘটনা জানার পরও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে প্রশাসন। গাছ জব্দ কিংবা কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো ঘটনা জানা যায়নি।
গত ১ মাসের ব্যবধানে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের আওতায় দুইটি রাস্তার গাছ কাটা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানার পরও কোন এক অজ্ঞাতক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গত সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখ বৃহস্পতিবার দিন দুপুরে দাপটের সঙ্গে, সবার চোখের সামনে জিউপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বারুর মোড় এলাকায় পাকা রাস্তার পাশে থাকা ১০ টি মেহগনি গাছ কেটে নেয় স্থানীয় প্রভাবশালী মনসুর রহমানের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান। সেখানে প্রতিবাদ করারও কেউ ছিলনা। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন জানার পরেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
এছাড়াও একই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড ধোপাপাড়া বাজারের পাশে অক্টোবর মাসের ২১ তারিখ বৃহস্পতিবারে দিনের দুপুরে রাস্তার পাশের বড় বড় ৪ টি মেহগনি গাছ কেটে নেয় ধোপাপাড়া গ্রামের শিক্ষক আবু বাক্কার মাস্টার। এখানেও গাছ কাটা হলে স্থানীয়রা কোন এক অজ্ঞাত কোনো কারণে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এখানেও উপজেলা প্রশাসন জানলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন এভাবে নিজের ইচ্ছে মত সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটা শুরু করলে ভবিষ্যতে এর পরিণাম খুব খারাপ হতে পারে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে যার যখন খেয়াল খুশি মতো গাছ কাটা শুরু হতে পারে।
এসব গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান বলেন, আমি গাছ লাগিয়েছি, আমি কেটে নিয়েছি। সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে বলেন, রাস্তার দুই পাশে আমার জমি আমি রাস্তার ধারে গাছ লাগিয়েছি আমি কেটে নিচ্ছি এখানে কাউকে বলার কোন প্রশ্নই আসে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এখন নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য একজন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি। রাস্তার গাছ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ওদের হলে ওরা নিয়ে যাবে।