, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
সকালের নরম রোদে পদ্মার চরজুড়ে যেন সবুজের উৎসব। ধু-ধু বালুচরের বুকজুড়ে বিস্তীর্ণ পটলের ক্ষেত। কোথাও বাঁশের মাচা, কোথাও খড় বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে আবাদি জমি। লতাভরা গাছ থেকে একের পর এক পটল তুলছেন কৃষকেরা। কেউ বাছাই করছেন, কেউ ঝুড়িতে ভরছেন, আবার কেউ-কেউ ব্যস্ত ক্ষেত পরিচর্যায়। ভালো ফলন আর সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে বাঘার চরাঞ্চলে উৎপাদিত সবজি পটল।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের পাশাপাশি আড়ানী ও বাউসা ইউনিয়নে এ বছর পটলের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে পটলই হবে তাদের সবচেয়ে লাভজনক ফসল। চরাঞ্চলের কৃষক আবু বকর তিন বিঘা জমিতে এবার পটল চাষ করেছেন। ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে তাঁর মুখে তৃপ্তির হাসি। তিনি বলেন, এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বাজারেও দাম ভালো। সবকিছু ঠিক থাকলে পটল বিক্রি করেই সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরবে।
একই প্রত্যাশা কৃষক হাফিজুর ও ফজলু দেওয়ানের। চার বিঘা জমি থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮-২০ মণ পটল তুলছেন তারা। তাদের ভাষায়, পটল খুব যত্ন করে তুলতে হয়। একটু আঘাত লাগলেই দাম কমে যায়। তারা জানান, ক্ষেত থেকেই প্রতি মণ পটল ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন। পরে সেই পটল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২শ’ টাকা মণ দরে।
আড়ানী গ্রামের কৃষক সুজন আলী বলেন, এখন পটলই আমাদের ভরসা। তাই দুই দিন পরপর ক্ষেতে গিয়ে পটল তুলি, পরিচর্যা করি। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করতে পারব বলে আশা করছি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও পদ্মার অনেক চর অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই বালুচরই পরিণত হয়েছে সবজি উৎপাদনের উর্বর জনপদে। পটল, বেগুন, মরিচ-সহ নানা ধরনের সবজির আবাদে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের অর্থনীতি। মৌসুম জুড়ে এখানকার কৃষকেরা স্থানীয় বাজারের পাশা-পাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি সরবরাহ করছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবলু দেওয়ান বলেন, আমাদের চরাঞ্চল এখন সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এ বছর পটল ও বেগুনের ফলন খুব ভালো হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নাটোর, খুলনা, ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জ, সিলেট এবং ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার পটল যাচ্ছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, দেশের সব এলাকায় পটলের আবাদ হয় না। তবে বাঘার পদ্মার চরাঞ্চল, আড়ানী ও বাউসা ইউনিয়নের মাটি ও পরিবেশ এই ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে পটলের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।
বাঘার সুশীল সমাজের লোকজন জানান, পদ্মার বালুচরে দুলতে থাকা সবুজ পটলের লতা যেন শুধু একটি ফসলের গল্প নয় , এটি হাজারো কৃষক পরিবারের স্বপ্ন , পরিশ্রম আর সম্ভাবনার প্রতীক। সেই স্বপ্নের রং আরও গাঢ় হবে কি না , এখন তা অনেকটাই নির্ভর করছে প্রকৃতির অনুকূল আবহাওয়ার ওপর।
সানশাইন/শামি