সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
লালপুর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহায়কের প্রতারণার শিকার হয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন শনিবার ৪ জুলাই বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তারা বাকি সবগুলো পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানাগেছে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পুরণের টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারকে পুলিশ শুক্রবার রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকা থেকে আটক করেছে।
জানাগেছে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভারজনিত সমস্যায় পড়েন।
পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফি সহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণের দায়িত্ব নিয়ে টাকা নেন। কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করেননি। পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ঐ ৮ শিক্ষার্থী।
বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলনের নজরে এলে তিনি শুক্রবার দুপুরে টেলিকনফারেন্সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ও আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামদুদুর রহমান সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই শিক্ষা বোর্ড প্রবেশপত্র প্রস্তুত করে ঐ আট শিক্ষার্থীকে শনিবার পরীক্ষায় আংশ গ্রহনের সুযোগ করে দেয়।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, শনিবার পরীক্ষার আগেই ঐ শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র তাদের হাতে পৌছে দেওয়া হয়।
আব্দুলপুর সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামদুদুর রহমান প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কলেজ প্রশাসন রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সােেথ জড়িত অমিত কুমার সরকারকে বনপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা হয়েছে।