শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
শাহালাল ইসলাম,গোদাগাড়ী :
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় জুবায়ের হোসেন (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষক ইয়াসিন বিন রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে শিক্ষক ইয়াসিন বিন রেজাউল করিমের সাথে জুবায়েরের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক জুবায়েরের ওপর চড়াও হন এবং ব্যাপক মারধর করেন। এতে জুবায়েরের একটি দাঁত ভেঙে যায়, দুটি দাঁত আলগা হয়ে পড়ে এবং তলপেটে গুরুতর জখম হয়। আঘাতের তীব্রতায় তার প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষক দাবি করছেন আমার ছেলে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও আমার ছেলের বর্ণনা অনুযায়ী এটি স্পষ্ট যে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আঘাতের কারণে সে এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়।”
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াসিন নিজে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মোবাইল জব্দ করতে গেলে ছাত্রটি পালানোর সময় টয়লেটের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়। ঘটনার পর ওই শিক্ষক প্রতিবেদককে প্রভাবিত করার জন্য একটি মনগড়া বয়ান পাঠানোর চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সেক্রেটারি আবুল কাশেম বলেন, “ঘটনার পর আমরা ছাত্রটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছি। এটি মোবাইল ব্যবহার সংক্রান্ত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিচ্ছি।”
এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীর ওপর এই ধরনের অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন ঘটনার তদন্তে কোনো গাফিলতি না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সানশাইন /শামি