শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে এবার মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনও না হারলেও সামনের ম্যাচে নিজেদের এগিয়ে রাখতে রাজি নন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
তার মতে, কাগজে-কলমে এই ম্যাচে ফেভারিট ব্রাজিলই। আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নরওয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হালান্ড সংক্ষেপে বলেন, ‘সম্ভাবনা খুবই কম। এর আগেও ব্রাজিলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার বিষয়ে নিজের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিলেন তিনি। হালান্ডের মতে, ‘শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে হবে, এটাই বাস্তবতা।
অবশ্য অতীত পরিসংখ্যান নরওয়ের পক্ষেই কথা বলে। দুই দলের আগের চার দেখায় ব্রাজিল একবারও জয় পায়নি। তবে সেই ইতিহাসকে সামনে রেখে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখাতে নারাজ হালান্ড। তার মতে, নকআউট পর্বে অতীত নয়, বর্তমান পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পর ডালাস স্টেডিয়ামে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। গ্যালারিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মাঠেও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপনে মেতে ওঠেন নরওয়ের ফুটবলাররা। মিডফিল্ডার মার্টিন ওদেগার্ডের ড্রামের তালে বৈঠা বাইবার প্রতীকী ভঙ্গিতে আনন্দ ভাগ করে নেন তারা।
দেশজুড়ে জাতীয় দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনার কথাও তুলে ধরেছেন হালান্ড। তিনি বলেন, ‘নরওয়ের মানুষ এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত। জাতীয় দলকে ঘিরে পুরো দেশের এই ঐক্য আমাদের পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। সে বিষয়ে হালান্ড বলেন, ‘এখন আমরা শেষ ষোলোতে। এখান থেকে প্রতিটি দলই শক্তিশালী। সামনে এগোনো মোটেও সহজ হবে না। আমরা পারব কি না, সেটাও জানি না। তবে আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সেই প্রস্তুতি ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করেছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদেই ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।