বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে দোকানের বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মহিলাসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার ২২ জুন দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চল গড়গড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে সুত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে গড়গড়ি গ্রামের কদম আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ভোলা তার ৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে একই এলাকার মুদি দোকান ব্যবসায়ী রাহাত আলী প্রামাণিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ রাহাত আলী প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠায়।
রাহাত আলী প্রামাণিকের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন জানান, সোমবার দুপুরে তার মা কল্পনা খাতুন আনোয়ার হোসেন ভোলার বাড়িতে দোকানের প্রায় ৫ হাজার টাকা বকেয়া পাওনা চাইতে যান। এ সময় আনোয়ার হোসেন ভোলা, তার মা রুনি বেগম ও ভাবী রিমি খাতুন ক্ষিপ্ত হয়ে কল্পনা খাতুনকে মারধর করেন।
তিনি আরও জানান, মায়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে তার ভাই ফারুক হোসেন, স্বামী আব্দুল মমিন, দুলাভাই তরিকুল ইসলাম তুষার, বোন লাইলী, রিনি ও রাণী এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের মারাত্মকভাবে জখম করে। এতে ফারুক হোসেনের একটি হাত ভেঙে যায় এবং আব্দুল মমিন ও তরিকুল ইসলাম তুষারের মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সুমাইয়া খাতুন অভিযোগ করেন, ঘটনার পর আনোয়ার হোসেন ভোলা ও তার লোকজন নিজেদের বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ভোলার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।