সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি। ভারতীয় বিএসএফ এর পুশইন রুখে দিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী ও বিজিবি। এছাড়াও বিজিবির পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এলাকাবাসীর সহযোগীতা কামনা করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে সীমান্তে আতঙ্কের কিছু নাই বলে দাবি বিজির।
স্থানীয় জেলেরা জানান, শনিবার ১২ জুন রাত থেকে চারঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ পদ্মা নদীর ওপারে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরপাড়া থানার কাগমারি চর এলাকায় সীমান্তে কয়েকশ মানুষকে জড়ো করে রাখে। এমন খবর জানতে পেয়ে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী একজোট হয়ে এই পুশইনের প্রচেষ্টা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করেন এবং ভারতীয় বাহিনীর পরিকল্পনা ব্যার্থ করে দিয়েছেন।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জানান, বিজিবি সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিএসএফের সম্ভাব্য পুশইন প্রতিহত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও কামনা করছে বিজিবি। রোববার সারা রাত বিজিবির সঙ্গে কাধে কাধ মিলে সীমান্তে পাহারা দিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী।
পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার রাত থেকে শুনছি বিএসএফ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্দ্যেশে ভারতের কাগমারি চরে জড়ো করে রাখছে। হয়ত তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে। বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীও সারা রাত সীমান্ত পাহারা দেয়। তাদের এই দৃঢ় অবস্থান ও রাতভর বিজিবির সতর্ক নজরদারির মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং পুশইনের চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যায়।
বিজিবির চারঘাট বিকল্প বিওপির কমান্ডার সুবেদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সীমান্তে আরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে।