শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে। মাত্র প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যা এবং চার হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির জন্য এটি শুধু একটি ফুটবল অর্জন নয়, বরং জাতীয় গৌরবের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করে কেপ ভার্দে জাতীয় দল। কয়েক দশকের পথচলায় ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে তারা। অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা এবং ফুটবলকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যের শক্তিতেই অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে ‘ব্লু শার্কস’রা।
কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পেছনে শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই নয়, ছিল পুরো জাতির সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দেশটির বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীও এই ফুটবল প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন পটভূমি থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের একত্রিত করে শক্তিশালী দল গড়ে তুলেছে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন।
বিশেষ করে কোচ বুবিস্তার নেতৃত্বে দলটি পেয়েছে নতুন পরিচয়। শক্তিশালী রক্ষণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ- এই তিন অস্ত্রেই আফ্রিকান বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষদের চাপে রেখেছে কেপ ভার্দে। পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো, যিনি ‘বুবিস্তা’ নামেই বেশি পরিচিত, কেপ ভার্দে ফুটবলের অন্যতম বড় নাম। সাবেক এই অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার খেলোয়াড়ি জীবনে অ্যাঙ্গোলা, স্পেন ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন।
২০২০ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মিশন শুরু করেন। তার অধীনে কেপ ভার্দে হয়ে ওঠে কঠিন প্রতিপক্ষ। পুরো বাছাইপর্বে দলটি দেখিয়েছে দুর্দান্ত রক্ষণভাগ, কৌশলগত বৈচিত্র্য এবং লড়াকু মানসিকতা। বুবিস্তার নেতৃত্বেই ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে কেপ ভার্দে।
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকে মূলপর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। শক্তিশালী ক্যামেরুন ও অ্যাঙ্গোলার মতো দলকে পেছনে ফেলে তারা গ্রুপসেরা হয়। বিশেষ করে ঘরের মাঠে ছিল তাদের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। পাঁচটি হোম ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেয়েছে তারা, এমনকি একটিও গোল হজম করেনি। শেষ ম্যাচে এসওয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ব্লু শার্কসরা।
বিশ্বকাপের পথে এটি কেপ ভার্দের প্রথম বড় সাফল্য হলেও আগের আসরগুলোতে তারা সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নাইজেরিয়ার সঙ্গে তীব্র লড়াই করেছিল তারা। শেষ ম্যাচে লাগোসে ১-১ ড্র করে বিদায় নিতে হয়েছিল কেপ ভার্দেকে।
সেই দলের কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার এখনো রয়েছেন বর্তমান স্কোয়াডে। অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস, গোলরক্ষক ভোজিনহা এবং ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেস (পিকো) এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গ্রুপপর্বে কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে যাচ্ছে কেপ ভার্দে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই পরাশক্তি স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলতে হবে তাদের।
কোচ বুবিস্তার স্কোয়াডে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির মিশ্রণ। গোলরক্ষক ভোজিনহা, উইঙ্গার রায়ান মেন্দেস, ডিফেন্ডার রবার্তো ‘পিকো’ লোপেস এবং স্ট্রাইকার ডাইলন লিভ্রামেন্তো এই দলের মূল ভরসা। বিশেষ করে বাছাইপর্বে ডাইলন লিভ্রামেন্তোর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ছোট্ট একটি দ্বীপদেশ থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার এই গল্প ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রথম বিশ্বকাপেই কতটা চমক দেখাতে পারে কেপ ভার্দে।