, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মূল উইকেটে তখনও কেউ নামেননি। দলের অন্য ক্রিকেটাররা ড্রেসিংরুম কিংবা ওয়ার্মআপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময় একাই মাঠে এসে হাজির লিটন দাস। ধীরে ধীরে হেঁটে পুরো উইকেট দেখলেন, কিছুক্ষণ নিচু হয়ে ঘাসের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলেন।
পরে কিউরেটর টনি হেমিংয়ের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলতেও দেখা গেল তাকে। শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে যেন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এই উইকেটই। সিলেটের উইকেটে এদিন চোখে পড়েছে বেশ ভালো পরিমাণ ঘাস। উপরের অংশে সবুজাভ আবরণ এখনও স্পষ্ট।
যদিও ম্যাচ শুরুর আগে কিছু ঘাস ছেঁটে ফেলা হবে, তারপরও এটি পুরোপুরি শুকনো বা ধীরগতির উইকেট হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং শুরুতে পেসারদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন বলে বোলাররা বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্ট পেতে পারেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের উইকেট অতীতে অনেক সময়ই পেসারদের সহায়তা করেছে। সকালের আর্দ্রতা আর মেঘলা আবহাওয়ায় এখানে সুইংও বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। এবারও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উইকেটে আর্দ্রতা থাকার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে প্রথম দুই দিনে ব্যাটারদের জন্য পরীক্ষা কঠিন হতে পারে।
এমনিতেও সকালের দিকে নতুন বলে পেসাররা সুইং ও সিম মুভমেন্ট পেয়ে থাকেন। সে কারণে টস জিতে আগে বোলিং করাটাই উত্তম হতে পারে। তবে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেট ধীর হয়ে স্পিনারদেরও সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে শেষের দিনগুলোতেও সিলেটের উইকেটে বোলারদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা থাকবে।
মিরপুর টেস্টে দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটে করেছে নিজেদের প্রথম অনুশীলন। যথারীতি সবার আগে মাঠে আসেন মুশফিকুর রহিম। কয়েকজন নেট বোলার ও টিমবয় নাসিরকে নিয়ে আলাদা করে শুরু করেন নিজের প্রস্তুতি। আনুষ্ঠানিক ওয়ার্মআপের আগেই ব্যাট হাতে নেটে নেমে পড়েন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। পরে দলের সঙ্গেও দীর্ঘ সময় অনুশীলন করেন। পুরো দিনে বেশ কয়েকবার বিশ্রাম নিয়ে ব্যাটিং করতে দেখা যায় মুশফিককে।
মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দেওয়া নাহিদ রানাকে অবশ্য এদিন দেখা গেল অন্য ভূমিকায়। বল হাতে নয়, বরং ব্যাট-গ্লাভস নিয়েই বেশ কিছু সময় কাটালেন নেটে। মনোযোগ দিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তরুণ এই পেসার। অন্যদিকে একাদশের বাইরে থাকা শরিফুল ইসলাম সবার আগে বল হাতে নেন। সিলেটের গ্রাউন্ড টু-এর সেন্টার উইকেটে দীর্ঘ সময় বোলিং করেছেন তিনি। উইকেটের অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের পেস আক্রমণে পরিবর্তন আসতে পারে কি না, সেই আলোচনা তাই জোরাল হচ্ছে। তবে এবাদত হোসেনের বদলে শরিফুলের একাদশে ফেরার জোড় সম্ভাবনা রয়েছে।
স্কিল অনুশীলনের আগে পুরো দল দীর্ঘ সময় ধরে ওয়ার্মআপ করেছে। বরাবরের মতো দুই দলে ভাগ হয়ে বেশখানিকক্ষণ ফুটবল নিয়ে মেতে ছিলেন ক্রিকেটাররা। এরপর শুরুতেই নেটে যান মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল হাসান জয় ও নাহিদ রানা। তবে অনুশীলনের বড় চমক ছিলেন জাকির হাসান। ঘোষিত স্কোয়াডে না থাকলেও তাকে দলের সঙ্গে দেখা গেছে। পরে অবশ্য বিসিবি জানিয়েছে, ইনজুরির কারণে সাদমান ইসলাম ছিটকে যাওয়ায় ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে সিলেটে আনা হয়েছে জাকিরকে।
সব মিলিয়ে সিলেট টেস্টের আগে বাংলাদেশের অনুশীলনে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ, আবার সতর্কতার বার্তাও। মিরপুরে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এখন চায় সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। মিরপুরে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার দিন ড্রেসিংরুমে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সতীর্থদের বার্তা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘আজকের দিনটা (ঢাকা টেস্ট জয়ের দিন) আমাদের উপভোগ করার দিন। গত পাঁচটা দিন আমরা যেভাবে খেলেছি, আজকের দিনটা আমরা উপভোগ করব। কাল থেকে একটু একটু করে পরের টেস্ট ম্যাচটার জন্য আমরা যেন প্রস্তুতি নিতে থাকি। কারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, পরবর্তী টেস্ট ম্যাচটা আমরা কিভাবে ওদের সঙ্গে খেলব, কত ভালো খেলব। এর থেকেও কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতিটাই আসলে নিতে হবে।’
দলের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমানও জানালেন, সিলেট টেস্ট নিয়ে কতটা সিরিয়াস তার শিষ্যরা, ‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের অধিনায়ক শান্ত উদযাপনের সময়ই সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে। আমাদের খেলোয়াড়রা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। অনুশীলন আছে, সেখানে আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ হবে। আমার কাছে তেমন মনে হয় না যে অতিরিক্ত কোনো চাপ থাকবে। আমাদের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট অভিজ্ঞ এবং অনেক এনার্জেটিক। প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও তারা দীর্ঘদিন ধরে খেলছে। আমার মনে হয় প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে।’