, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
বাঘার পদ্মার চরে খোলা আকাশের নিচে, সবুজ ঘাসে মেতে উঠেছে গরুর দল – প্রকৃতির কোলে এমন শান্তি আর কোথাও নেই ! কিন্তু কখন যে গরুগুলো নিজ সীমানা পেরিয়ে অন্য সীমানায় প্রবেশ করেছে তা কেউ বুঝতেই পারেনি । এরপর শুরু হয় জটিল থেকে-জটিলতা । গরু মালিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, তিন থানার পুলিশ যৌথ অভিযান না দিলে, গরুগুলো ফিরে পেতাম না ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ৬ খামারির ১৭৬টি গরু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে তিন থানার যৌথ পুলিশ । মঙ্গলবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাঘা, লালপুর ও দৌলতপুর থানা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে মালিকদের কাছে গরু হস্তান্তর করেন পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গরুর মালিকপক্ষ-সহ স্থানীয় জনসাধারণ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের পলাশী ফতেপুর গ্রামের ৬ খামারির ১৭৬টি গরু নদী তীরবর্তী উন্মুক্ত চরে চরতে- চরতে বাঘা থানা সীমানা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি গরুগুলো নিজেদের দাবি করে আটকে রাখেন। পরে খামারিরা পুলিশের শরণাপন্ন হলে তিন থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মালিকরা হলেন- শওকত খামারু (৮০টি), জামাল খামারু (২৭টি), আসাদুল হক (১৬টি), আনারুল প্রামাণিক (২০টি), জনি প্রামাণিক (২০টি) ও কামাল খামারু (১৩টি)। তারা সবাই বাঘা উপজেলার পলাশী ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বাঘা থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক জানান, গরুগুলো যারা নিজেদের দাবি করে আটকে রেখেছিল, তারা পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে গরু ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গরু ফিরে পেয়ে খামারিরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ।
গরুর মালিক শওকত খামারু বলেন, “চরে গরু চরাতে গিয়ে সীমানা পার হয়ে গিয়েছিল। ১৭৬টি গরু হারিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ে ছিলাম। পরক্ষণেই তিন থানা পুলিশের দ্রুত অভিযানের কারণে আমরা গরুগুলো ফিরে পেয়েছি।”এ জন্য আমরা পুলিশের প্রতি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ ।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, পদ্মার চর এলাকা থেকে গরুগুলো পথ ভুলে দৌলতপুর সীমান্তে চলে যায়। খবর পেয়ে লালপুর ও দৌলতপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গরু গুলো উদ্ধার করি। পরে প্রকৃত মালিক শনাক্ত করে তাদের কাছে গরুগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
এ বিষয়ে বাঘার স্থানীয় লোকজন বলেন, তিন থানা পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় সময় মতো ১৭৬টি গরু উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন খামারিরা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে গবাদিপশু দেখভালে আরও সতর্ক থাকা উচিত খামারুদের বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
সানশাইন /শামি