সর্বশেষ সংবাদ :

সুখানদীঘি গ্রামের ঘটনায় দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

জুবায়ের তুহিন, রাজশাহী :

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের সুখানদীঘি গ্রামে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে স্থানীয় বিরোধ, মামলা দায়েরের প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সুখানদীঘি গ্রামে ডিপটিউবওয়েল ও স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সেকেন্দার আলী পটল নামের এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি ও চাকুসহ স্থানীয় লোকজন আটক করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পটলের স্ত্রী পলি খাতুন বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা নং-৬ দায়ের করেন। ওই মামলায় দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক জুবায়েদ হোসেনসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে উপজেলা বিএনপি একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে অধ্যাপক জুবায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তাকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বিষয়টিকে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রতিবেদনে এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

উপজেলা বিএনপির গঠিত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে ছিলেন দুর্গাপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান লালটু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মন্ডল, ৪ নং দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম সাকলায়েন, পৌর বিএনপির সদস্য জিয়াউল হক রতন এবং ৩ নং পানানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম খান।

উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্থানীয় বিরোধ নিরসনে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: April 29, 2026 | সময়: 8:39 pm | Daily Sunshine