, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন, রাজশাহী জেলার এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পেট্রোল পাস্প মালিকগণ সরকারের ঘোষণাকৃত জ্বালানী তেলের সরবরাহ না পেয়ে বহুমুখী সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
তারা বলেন বৈশ্বিক সমস্যার কারণে হঠাৎ জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে বর্তমানে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করার ব্যাপারে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সমস্যাগুলো হচ্ছে, ফিলিং স্টেশনগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। সকল ফিলিং স্টেশন বর্তমানে নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফিলিং স্টেশনগুলোর জ্বালানির মজুদ শেষ হওয়ার পরেও গ্রাহক জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য চাপ প্রদান করে থাকে। এমনকি মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং কোনো কোনো ফিলিং স্টেশন ভাঙচুর করা হচ্ছে। বর্তমানে এ ধরণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এমনকি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা মারধরের শিকার হচ্ছে ফলে তারা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করছে। এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কার্যকরি পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে একবারে লিফটিং চাহিদা ৯০০০/১৩৫০০ লিটার। বর্তমানে লিফটিং চাহিদার বিপরীতে কখনো ৩০০০ লিটার, ৫০০০ লিটার ও ৭০০০ লিটার সরবরাহ করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না অপর দিকে একটি ট্যাংকলরীর ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ না করার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে ফিলিং স্টেশনগুলো ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের মেশিনপত্র এবং পাইপলাইন সচল রাখতে ন্যূনতম একটি নির্দিষ্ট পরিমান জ্বালানি তেল মজুদ রাখতে হয়। কিন্তু গ্রাহকদের চাপের কারণে জ্বালানি তেল মজুদ নিঃশেষ করে ফিলিং স্টেশনগুলো তেল বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে ফলে মেশিনপত্র এবং পাইপলাইন বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী শহর একটি বিভাগীয় শহর এর কর্মপরিধি ব্যাপক হওয়ার কারণে জ্বালানির চাহিদা বেশি। সে তুলনায় রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলাতে জ্বালানি বরাদ্দ কম তাই চাহিদা অনুযায়ী আনুপাতিক হারে জ্বালানি বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা ব্যতীত অন্য কোনো উপায় থাকবে না।
আরো সিদ্ধান্ত হয় যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালার ক্ষেত্রে মালিক পক্ষের সমিতির প্রতিনিধি থেকে অপরাধের ভিত্তিতে জরিমানা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি বা সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। মতিউর ফিলিং স্টেশনের ভ্রাম্যমাণ কোড রিভিউ করতে হবে। সন্ধ্যা ৭টা হতে পাম্পের সামনে প্রাইভেট কার এবং মোটর সাইকেলের লাইন সকাল ৬টা থেকে কার্যকর করতে হবে। বিগত কয়েকদিনে যতগুলো মব সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতি করেন সংগঠনের সভাপতি মনিমুল হক এবং সভা পরিচালনা করেন মো. আনিসুর রহমান সুমন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার ৪৩ টি পেট্রোল পাম্পের মালিকগণ।