সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিলেন নির্বাহী অফিসার

নুরুজ্জামান,বাঘা :
বাঘায় ক্যান্সারের সঙ্গে ছোট্ট আদিলের যুদ্ধ ,বাঁচাতে প্রয়োজন মানবিক সহায়তা। রাজশাহী থেকে প্রকাশিত “দৈনিক সানশাইন’’ পত্রিকায় এমন শিরোনামে সম্প্রতি একটি খবর প্রকাশিত হয়। আর এ খবরটি চোখে পড়ে বাঘার মানবিক নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তারের।

তিনি বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে ঐ শিশুর বাবা-মার হাতে তুলে দিয়েছেন নিজ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা। একই সাথে সরকারী সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন । এতে আবেগ-আপ্লুত হয়েছেন শিশু আদিলের পরিবার। তারা নির্বাহী অফিসারের প্রতি কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করে আনন্দে অশ্রু সিক্ত হয়েছেন ।

খবরে লেখা ছিলো, খেলার বয়স এখনো শুরু হয়নি। কথা জড়িয়ে আসে, হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যায় আদিল। বয়স মাত্র দুই বছর । অথচ এই কোমল বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় চার লক্ষ টাকা। তাকে বাঁচাতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন । পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান হওয়ায় টাকার অভাবে একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ে ছিলেন তার বাবা-মা সহ বৃদ্ধ দাদিমা। এই পরিবারটির বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের নওটিকা গ্রামে।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ আদিলের পেট অস্বাভাবিক ভাবে ফুলে ওঠে। প্রথমে তাকে স্থানীয় বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে ভয়াবহ ক্যান্সারের রোগ। চিকিৎসকরা জানান, তার একটি কিডনিতে টিউমার ধরা পড়েছে এবং সেখান থেকেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে কিডনিটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, তবে খুব শির্ঘই তাকে অপরেশন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় চার লক্ষ টাকা। চিকিৎসকের এই কথা শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ের তার অসহায় বাবা-মা। এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এদিকে উক্ত সংবাদটি চোখে পড়ে বাঘার মানবিক নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তারের। তিনি প্রতিবেদকের সাথে কথা বলে বুধবার দুপুরে ঐ পরিবারে ডেকে নেন তার অফিস কক্ষে। এরপর নিজ তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা অর্থিক সহায়তা তুলে দেন তাদের হাতে। এ খবর শুনে নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান বাঘার জনসাধারণ ও ভুক্তভুগী পরিবার-সহ নওটিকাবাসী।

বুধবার এ খবর লেখার পূর্বে নওটিকা গ্রামের সিদ্দিক আলী জানান, নির্বাহী অফিসারের অনুদান দেয়ার খবর শুনে এখন গ্রামবাসীরাও ঐ শিশুর চিকিৎসার সাহায্যে এগিয়ে আসছে। একই সাথে বিষয়টি এখন সকলেই ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, আমি কতটুকু দিতে পারলাম সেটা বড় কথা নয়। মানুষ-মানুষের জন্য। আমি চাই এই শিশুর চিকিৎসার সাহায্যে সমাজের বিত্তবানরাও এগিয়ে আসুক। তিনি আরো বলেন, অসহায় ও দুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে ১০৯৮ চাইল্ড হেল্পলাইন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দুঃস্থ শিশু সাহায্য তহবিল থেকে সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও আবেদন করা যেতে পারে। আমি চিকিৎসকের কাগজপত্র সহ উক্ত দপ্তর গুলোতে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছি। আবেদন জমা পড়লে, চিকিৎসা ফান্ড সংগ্রহে আমি সর্বাত্নক চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: March 4, 2026 | সময়: 5:08 pm | Daily Sunshine