সর্বশেষ সংবাদ :

এবি পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নোমান : রাজশাহীকে আধুনিক শিক্ষা, মানবিক ও সম্ভাবনাময় নগরীতে গড়ে তুলবো

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-২ (সদর) আসন বদলাবে, নতুন নেতৃত্বে-এই স্লোগানকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে এগিয়ে চলেছেন মোহাম্মদ সাঈদ নোমান। তিনি এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি রাজশাহী নগরীকে ঢেলে সাজতে চান। পাশাপাশি তিনি নগরবাসীর কাছে দোয়া, ভোট ও সমর্থন প্রত্যাশা কামনা করেন।
একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘আজকে হ্যাঁ এবং না ভোট-অর্থাৎ গণভোটের বিষয়টির দায় বড় বড় রাজনৈতিক দল এড়িয়ে যেতে পারেন না। আমরা বিশ্বের উন্নত দেশের তুলনায় অনেক পিছনে পড়ে আছি। আমাদের চিন্তা চেতনা বিশ্বের সাথে সাথে আপডেট করতে হবে। রাজশাহীর জন্য অনেক কিছুই করার আছে। আমাদের গতানুগতিক রাজনৈতক দলের একপেশে চিন্তা-চেতনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময়ের চাহিদার সাথে সাথে প্রাকপিক্যাল হতে হবে। নইলে আমরা এগুতে পারব না’।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারলে রাজশাহীকে দেশের অন্যতম চিকিৎসাকেন্দ্রের হাবে পরিণত করা হবে। এতে করে সাধারণ মানুষকে আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত কিংবা বিদেশে যেতে হবে না।
শনিবার সকালে বিনোদপুর আমজাদের মোড় এলাকায় তার নিজস্ব কার্যালয়ে দৈনিক সানশাইন কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, “রাজশাহীতে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থাকলেও উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার ঘাটতি রয়েছে। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আধুনিক হাসপাতাল, বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজশাহীকে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো।”
সাঈদ নোমান বলেন, রাজশাহীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অবহেলিত। “একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থান। আমি এই দুই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাই,”।
তরুণ ও নতুন ভোটারদের কাছে থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে ঈগল প্রতিকের এই প্রার্থী বলেন,“ আমার প্রার্থীতা বৈধতা পেয়েছে। আমি দীর্ঘদিন থেকে রাজশাহী মহানগরীর মানুষদের বিপদ-আপদে কাছে থেকেছি। ভোটকে সামনে রেখে আমি সব থেকে বেশি তরুণ ও নতুন ভোটারদের কাছে থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। রাজশাহী নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডেও উন্নয়ন নিয়ে ইতিমধ্যে আমি পরিকল্পনা শুরু করেছি। আমি যদি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারি তাহলে রাজশাহীর তরুণদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করবো।”
এখন পর্যন্ত এবি পার্টি কোন দলে যুক্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন,“এখন পর্যন্ত আমাদের এবি পার্টি কোন জোটে যুক্ত হয়নি। তবে জোটের বিষয়ে আলোচনা চলমান। ১০ দল বা ১১ দলের সাথে এবি পার্টির আলোচনা চলছে এখনো। সুতরাং আমি জোটের প্রার্থী বলতে পারিনা। আমি এবি পার্টি মনোনীত একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী।”
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সময়ে রাজশাহীতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা হলো ডিমের খোসার মত, উল্লেখ করে তিনি বলেন,“মাকসাড়ার জালের মতো শুধু কয়েকটা রাস্তা আর ল্যাম্পপোস্ট করা হয়েছে। কিন্তু মানুষের যে মৌলিক সমস্যা সেগুলোতে কোন কাজ করা হয়নি। কোন রকম প্লান ছাড়াই সব ধরণের কাজ করা হয়েছে। এতে জনকল্যাণ ছাড়া শুধুমাত্র জনদূর্ভোগ তৈরী হয়েছে।” তার আগের জনপ্রতিনিধিরা ভোট কমে যাব বলে একটি ইটও সরিয়ে দেখেননি। বরং উল্টো রাজশাহীর যা পাওয়া ছিল-তাও অন্যত্র চলে গেছে।
মোহাম্মদ সাঈদ নোমান জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইটি ট্রেনিং সেন্টার ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের জন্য শিল্পাঞ্চল, উদ্যোক্তা সহায়তা ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। তারা একটি বিশেষ দলের হয়ে কাজ করছে। তারা কোন কাজ করছে না। একটি বড় দলের প্রতি প্রশাসন ঝুঁকে গেছে। ভবিষ্যতে ভালো পস্টিং পাওয়ার জন্য তারা এখন থেকেই দলের নেতাদের চেম্বার যাওয়া আসা শুরু করে দিয়েছে। এতে করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমি তাদের উদ্দেশ্য বলতে চাই, আপনারা হারুন, বেনজীরের করুণ পরিস্থিতির কথা স্মরণে রাখিয়েন। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন, অন্যথায় তরুণ প্রজন্ম এর জবাব দিবে।”
এরআগে গণসংযোগ এবং প্রচারণার সময়ে তার দলের কর্মীরা বাধাঁগ্রস্ত হয়েছিল জানিয়ে সাঈদ নোমান বলেন, “আমি এই আসনের সবচেয়ে তরুণ প্রার্থী। অথচ আমাকে বড় দলের প্রার্থীরা ভয় করছে। আমার কর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে কোর্ট বাজার এবং গুড়ি পাড়ায় আমার দলের প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন মহিলা কর্মীদের বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমি গিয়ে সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এই হলো পরিস্থিতি। আমি নিজেই আমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
তবে সব বাধা উপেক্ষা করেই জনগণের শক্তির ওপর ভরসা রেখে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবি পার্টির এই প্রার্থী। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত জনগণই সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে। রাজশাহীর মানুষ পরিবর্তন চায়, ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন চায়।”
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি রাজশাহী-২ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের ভোট ও সমর্থন পেলে রাজশাহীকে সত্যিকার অর্থে শিক্ষানগরী, আধুনিক, মানবিক ও সম্ভাবনাময় নগরীতে রূপান্তর করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”


প্রকাশিত: January 18, 2026 | সময়: 2:14 am | সুমন শেখ