সর্বশেষ সংবাদ :

কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের দাপট

স্টাফ রিপোর্টার: একদিকে কুয়াশা, অন্যদিকে শৈত্যপ্রবাহ। রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। রাজশাহীতে শুক্রবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। কমতে পারে তাপমাত্রাও। কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শহরে কমেছে লোকসমাগম। ঠান্ডায় সবচেয়ে কষ্ট পাচ্ছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ।
এদিকে, তীব্র শীতে সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ যত্ন নিতে হবে বৃদ্ধ ও শিশুদের।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, যশোরসহ ১৭ জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যা থাকবে আরও কয়েকদিন। বাড়তে পারে বাতাসের গতিবেগ ও কুয়াশা। শিগগরিই শীতের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। কমতে পারে তাপমাত্রাও।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে। এই দুই জেলায় মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ দুই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস।
একদিনের ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার পর অনেক দেরিতে সূর্যের দেখা মিললেও তেমন উত্তাপ না থাকা, ঘন কুয়াশা এবং উত্তরের কনকনে হিমেল বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে তীব্র শীতের অনুভূতি স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্ত করছে।
চলমান এ শৈত্যপ্রবাহের কারণে চুয়াডাঙ্গা জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে মঙ্গলবার শ্রেণি কার্যক্রম, ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, তীব্র শীতের কারণে সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে সারা দেশে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে সকাল ১০টায়। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নির্দেশনা বহাল থাকবে। যেসব জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে, সেসব জেলার বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশনাও বহাল রয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সারা দেশে চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে। এ ছাড়া, ইতোপূর্বে এই মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত যেসব জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে সেসব জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা বহাল আছে। চুয়াডাঙ্গার মঙ্গলবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অর্থাৎ ১০ ডিগ্রির কম। সে অনুযায়ী প্রাথমিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যেদিন এ জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কম থাকবে সেদিনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


প্রকাশিত: January 3, 2026 | সময়: 7:53 am | সুমন শেখ

আরও খবর