, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: গাছেরও যে জীবন আছে, তারাও কষ্ট পায়, তাদের গায়ে অকারনে আঁচড় কাটা কিংবা পেরেক ঠুকে আমাদের শখের সাইনবোর্ড আটকানোতে তারাও যে অসহনীয় যন্ত্রনা পায়, কষ্ট পায়। পার্থক্য শুধু তারা আমাদের মতো বলতে পারে না ও প্রতিবাদ করতে পারে না। কিংবা হয়তোবা বলেও, কিন্তু আমরা তা বুঝতে পারি না। হয়তোবা নিরবে কাঁদে তারাও। গাছের গা থেকে পেরেক ও সাইনবোর্ড তুলছিলেন আর বিড়বিড় করে কথাগুলো বলছিলেন হাকিমপুর উপজেলার হিলি পৌরসভার আনিসুর নামের এক পৌরকর্মী।
মঙ্গলবার দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি পৌর এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা ও নগরের সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পৌর প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কের গাছে ব্যানার, পোস্টার ও সাইনবোর্ডে ঢেঁকে যাওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছিল এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে গাছের গা থেকে পেরেক ঠুকে লাগানো সাইনবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার অপসারণে মাঠে নেমেছে পৌর প্রশাসন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও হিলি পৌরসভা প্রশাসক সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। পৌর এলাকার হাকিমপুর উপজেলা চত্বর, হিলি বাজার, সরকারি কলেজ মোড়, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন সড়কের গাছ থেকে অসংখ্য পেরেক, ব্যানার এবং সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়। এ সময় গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে ব্যানার বা সাইনবোর্ড ঝুলানোকে পরিবেশ বিরোধী ও এটি আইনগত ভাবে দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
পৌর প্রশাসক সাব্বির হোসেন বলেন, গাছ আমাদের পরিবেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়, গাছ না থাকলে, না বাঁচলে আমরাও বাঁচতাম না। অথচ ব্যক্তিস্বার্থে কিছু মানুষ গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার ঝুলিয়ে গাছের চরম ক্ষতি করছে। এটি যেমন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি আইন বিরোধী কাজ। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই অভিযান শুরু হয়েছে এবং এখন থেকে নিয়মিত ভাবে এটি অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পৌর এলাকার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশ রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতে কেউ যেন গাছের ক্ষতি করে এ ধরনের কাজ করতে না পারে সেজন্য এখন থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।