সর্বশেষ সংবাদ :

শেষ সম্বল তিনটি গরু চুরি দিশেহারা নাসিমা দম্পতি

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: মেয়ের সংসারে টাকা দেওয়ার জন্য গরু গুলো পালন করেছিলাম। এখন চোরে এসে আমার সব নিয়ে গেল। কথাগুলো বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন গৃহবধূ নাসিমা বেগম (৪৫)।
গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে চোরেরা গাভী সহ তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। শেষ সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা। নাসিমা বেগমের স্বামী আবদুর রহিম (৫৫)। তিনি পেশায় চা দোকানি। বাড়ি রাজশাহীর বাগমারার উপজেলার বড় বিহানালি ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। খালিশপুর বাজারে তাঁর চায়ের দোকান রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
আবদুর রহিম জানান, রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিনি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘরের পাশে একটি গোয়ালঘরে একটি গাভি সহ তিনটি গরু ছিল। রাত ১২ টার দিকে ঘুম থেকে জেগে গোয়ালঘরে এসে গরুগুলো দেখে যান। পরে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। ওই দিন সকালে ঘুম থেকে জেগে গোয়ালঘর থেকে গরু তিনটি আনতে গিয়ে শূন্য অবস্থায় দেখতে পান। বাড়ির পাশে রাস্তা ছোট ট্রাকের (পিকআপ) চাকা দেখতে পান। এছাড়াও পালা থেকে খড়ও চুরির বিষয় টের পান।
আবদুর রহিম জানান, চা বিক্রি করে কোনো রকম সংসার চালান। কিছু টাকা বাঁচিয়ে ও অন্যের গরু বর্গা নিয়ে সেখান থেকে তিনটি গরু হয়েছিল। সেগুলো বড় করে বিক্রির করে মেয়ের জন্য টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। গরু তিনটিই একমাত্র সম্বল ছিল। এখন সবই শেষ হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেন। গরু তিনটির দাম প্রায় দুই লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা শামিউল আলম বলেন, আবদুর রহিম গরীব। চা বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি সামান্য জমি ও গাভি কিনেছিলেন। চোরেরা তাকে নিঃস্ব বানালো। খড়গুলো চুরি করে গরুকে খাওয়ানোর জন্য নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাসিমা বেগম বলেন, কিছুদিন আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তবে মেয়ের সুখের জন্য কিছু টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। সে টাকা দেওয়ার জন্য গরুগুলো পালন করছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাছুর দুধ ছাড়লে গাই বিক্রি কইরে মেয়েকে টাকা দিতাম তা আর হলো না।’ এদিকে ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও গরু তিনটি উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থ্ গ্রহন করা হবে।


প্রকাশিত: September 14, 2025 | সময়: 3:50 am | সুমন শেখ

আরও খবর