সর্বশেষ সংবাদ :

ঘোড়া দিয়ে জমিতে মইচাষ

টিপু সুলতান, তানোর: বাংলার চিরচেনা গরুর বলদ ও লাঙ্গল বিলুপ্ত হতে বসেছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহর গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দীন সেই শূন্যতায় গরুর বদলে ঘোড়া দিয়ে রোপা আমন রোপণের জমিতে মই চাষ শুরু করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
নাসির উদ্দীন বলেন, গত সপ্তাহে ট্রাক্টর দিয়ে জমিতে হাল চাষ করার পর মই দেয়ার জন্য বলদ না পেয়ে ঘোড়া দিয়েই মই চাষ শুরু করি। এমন দৃশ্য দেখে পাশের জমির মালিকরাও তাদের জমিতে মই চাষ করিয়ে নিতে আগ্রহ দেখান।
তিনি জানান, মাত্র এক ঘণ্টায় দুই বিঘা জমিতে মই চাষ করে চারশ’ টাকা পেয়েছেন। এখন প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টায় সাত-আট বিঘা জমিতে ঘোড়া দিয়ে মই চাষ করছেন।
নাসিরের ভাষায়, আগে প্রতিটি কৃষকের গোয়ালে হাল চাষের জন্য গরুর বলদ ও লাঙ্গল থাকত। ধান ঘরে তুলতে গরুর গাড়িও থাকত। কিন্তু এখন সব হারিয়ে গেছে। আধুনিকতার কারণে বলদ, হাল, গাড়ি কালের গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায়।
তানোর সদর গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমার সাড়ে সাত বিঘা জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চলানোর পর মই দেয়ার জন্য গরু (বলদ) মেলেনি। তখন নাসিরের ঘোড়া দিয়ে মই চাষের দৃশ্য দেখে আমি তাকে ডাকি। মাত্র দেড় হাজার টাকায় পুরো জমিতে মই চাষ করিয়ে নিলাম। কম সময়ে ভালোভাবে কাজ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা হলেও জমি সমান করতে মই চালানোর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু গরুর বলদ আর কারও গোয়াল ঘরে নেই। ঘোড়া দিয়ে মই চাষ এ সমস্যার সহজ সমাধান।
কৃষক সুলতান আহম্মেদ বলেন, আমাদের বাড়িতে একসময় গরু মহিষে টানা পাঁচটি হাল ও গাড়ি ছিল। কিন্তু এখন একটিও নেই। কৃষকরা মনে করছেন, ঘোড়া দিয়ে মই চাষ একটি ভালো উদ্যোগ। তারা বলছেন, গরুর চেয়ে ঘোড়ার দামও কম এবং রক্ষণাবেক্ষণও সহজ।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমদ বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যান্ত্রিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। দিন দিন গরুর হালের চাহিদা কমে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই চাষ করতে দেখা গেছে। এটি একটি ভালো দিক। কৃষকদের খরচ কমবে।


প্রকাশিত: July 10, 2025 | সময়: 3:36 am | সুমন শেখ

আরও খবর