সর্বশেষ সংবাদ :

বিএমডি’র (ইআইইসিডি) প্রকল্প বরেন্দ্র অঞ্চলে সারাবছর পানি পাবে কৃষক

সবুজ ইসলাম: পানি না থাকায় আমাগো জমিত এক ফসলই হইত, দুই ফসল লাগাইতে পারতাম না। এই দিকটা পানির অভাব খুবই আছিল, জমিতে পানি পাওন যাইত না। কিন্তু এখন বিএমডি যে কাজ করছে, তাইহানে বছরভর পানি পাইবো আমরা।’ কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার চক দর্শনপাড়া এলাকার ৫২ বছর বয়সী কৃষক আয়নাল বেপারী। তিনি জানান ড্রিপ(গভীর নলকূপ) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিলের সব জমিতে সারাবছর পানি দেওয়ার জন্য তাদের বিলে কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে বিলে ফসলের জন্য পানির অভাব দূর হবে।
বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধুমাত্র রাজশাহীর পবা উপজেলা না রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের ১২২টি উপজেলায় বিলের আবাদি জমিতে সারাবছর এই প্রকল্পের আওতায় পানি পাবে কৃষক। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ‘ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা বর্ধিতকরনের মাধ্যমে সেচ এলাকা ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরীক্ষামূলক ভাবে ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রচলন (ইআইইসিডি)’ প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ড্রিপ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আবাদি জমিতে পানি সরবরাহের কাজ। ৪ হাজার ৫০০ টি পাইপের মাধ্যমে ২২ হাজার ৫০০ মিটার পাইপলাইনে ৪ লক্ষ্য ৪৫ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
কৃষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত সেচের পানি পাওয়ায় জমিতে সারা বছর ধান, ফল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করতে পারবে তারা। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার নূর হোসেন নামের এক কৃষক এই বিষয়ে বলেন, “আগে আমাদের বিলের সব জমিতে পানি নেওয়া যেতো না। এখন বিলের ড্রিপ লাইনের মাধ্যমে এই পাইপগুলো বসানো হচ্ছে। এতে করে এখন বিলের সব জমিতে আমরা পানি পাবো। এই প্রকল্পের জন্য আমরা কৃষকের পক্ষ থেকে বিএমডিএ কে ধন্যবাদ জানাই।”
বেলাল আলী নামের একজন বলেন, “আমাদের এই অঞ্চল খরাপ্রবণ হওয়ায় পানি নিয়ে আমাদের চিন্তায় থাকতে হতো। কিন্তু আমাদের বিলে নতুন করে পাইপলাইন সংযোগের কাজ চলছে। এই কাজ হয়ে গেলে আমরা বিলের জমিতে সারাবছর পানি পাবো। ধান থেকে শুরু করে সব ধরণের সবজি রোপণ করতে পারবো। এই প্রকল্প আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়েছে। আমাদের পানির কষ্ট দূর হয়েছে।”
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পানির সুষ্ঠবন্ঠন ও অপচয়রোধে ৪ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সাইফুল ইসলাম নামের এক প্রশিক্ষণার্থী এই বিষয়ে বলেন, ‘আগে আমরা যেভাবে জমিতে পানি নিতাম তাতে অনেক পানি নষ্ট হতো। কিন্তু আমরা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এখন আমরা খুব সহজেই পানির বাড়তি অপচয়রোধ ছাড়াই জমিতে পানি নিতে পারবো।’
বিএমডিএ থেকে আরো জানা যায়, এই প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। যার মাধ্যমে ৩ দশমিক ৬০ লক্ষ্য টন ফসল উৎপাদন করতে পারবে এই অঞ্চলের কৃষক। এতে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তত্ববধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক শহীদুর রহমান বলেন, “আমরা কৃষকের জন্য কাজ করি। আমাদের এই অঞ্চলগুলো খরাপ্রবণ হওয়ায় সারাবছর পানি পাওয়া যায় না। কিন্তু (ইআইইসিডি) প্রকল্পের আওতায় এখন থেকে কৃষকরা সারাবছর তাদের জমিতে পানি পাবে। তাতে ধান থেকে শুরু করে সবধরণের ফসলের জন্য পানির অভাব দূর হবে।”


প্রকাশিত: July 9, 2025 | সময়: 5:17 am | সুমন শেখ