সর্বশেষ সংবাদ :

জয়পুরহাট বিএনপির সেকাল-একাল

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: সদ্য প্রকাশিত বিএনপি’র ইতিহাস নিয়ে রচিত একটি বই সেকাল- একাল ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে সর্ব মহলে। নেতা কর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির অতীত জানার ব্যাপক প্রচেষ্টা।
গত সোমবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাট জেলা বিএনপি’র আয়োজনে, জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলজার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজশাহী বিভাগীয় সহ সংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মাসুদ রানা প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ ওহাব, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, শহর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান উজ্জ্বল প্রধান সহ বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মী ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদ কর্মী প্রমূখ।
১৯৭৮ সালের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বর্তমান শহর বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক আমিনুর রহমান বকুলের লেখা বইটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জয়পুরহাটে ১৯৭৭ সালে প্রথম জাগদল গঠিত হয় এবং বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সাহেব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তখন মহকুমাকে সাংগঠনিক জেলায় রুপান্তরিত হলে খন্দকার ওলিউজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক আমিনুর রহমান বকুলকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা জাগদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১৯৭৮ সালের ২৮ আগষ্ট জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার জাগদলের বিলুপ্তি ঘোষণা করেন।
একই বছরে ১ সেপ্টেম্বরে সংবাদ সম্মেলনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষণা করেন এবং নিজে দলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়ে ৭৫ জন সদস্য নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটির নাম রয়েছে। জয়পুরহাট থেকে ওই কমিটিতে স্থান পান সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল আলীম। এরপর চলছিল কার্যক্রম। জয়পুরহাটে বিগত ১৯৭৮ সালের শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন পাটের গুদামে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।
পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৯২ সালের ১১ জুলাই শহরের নাজমা সিনেমা হলের বিএনপির একটি কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে গোলাম রাব্বানী এমপি সভাপতি ও অধ্যাপক আমিনুর রহমান বকুল সাধারণ সম্পাদক সেই কমিটিতে ২নং সদস্য হিসেবে সাবেক এমপি মোজাহার আলী প্রধানের নামও রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এমপি হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি যুগ্ম আহ্বায়ক ও সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। মোজাহার আলী প্রধানের মৃত্যুর পরে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসাবে অধ্যক্ষ শামসুল হক আন্দোলনের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালে মার্চ মাসে তাঁর মৃত্যুর পরে জেলা বিএনপির হাল ধরেন ঐ কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলোচিত ছাত্রনেতা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলজার হোসেন আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মাসুদ রানা প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ ওহাব হাসিনা বিরোধী পুরো আন্দোলনে সুযোগ্য দায়িত্ব পালন করেন।
এই বইটিতে চুল চেরা বিশ্লেষণ করে জয়পুরহাটে বিএনপি’র রাজনীতির চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
সাবেক ছাত্রনেতা দুঃসময়ে জেলা বিএনপির কান্ডারী গোলজার হোসেন বলেন, আপনারা যে দল করেন, যে দলকে পছন্দ করেন সেই দল সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরী তাই বিএনপি’র ইতিহাস জানার জন্য এই বইটি অবশ্যই পড়ার চেষ্টা করবেন।
জয়পুরহাট বিএনপি’র নেতা, কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে এই বইটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


প্রকাশিত: June 29, 2025 | সময়: 4:31 am | সুমন শেখ