বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মিজানুর রহমান, চারঘাট: বড়ালের পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবশেষে ৪০ বছর পরে রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদীর উপর নির্মিত স্লুইসগেট অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং এলাকার পরিবেশগত উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই স্লুইসগেট অপসারণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং মরা বড়াল নদী পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর ভয়াল থাবা থেকে বড়ালের আশে পাশের মানুষকে বন্যার পানি থেকে রক্ষা করতে ১৯৮৪ সালে চারঘাটের বড়ালের উপর নির্মাণ করা হয় স্লুইসগেট। প্রথম প্রথম এটি মানুষের কণ্যানে কাজে আসলেও দীর্ঘদিন ধরে বড়ালের দুই পাশ দখল, দুষণ আর অপরিকল্পিত খননের ফলে বড়াল মরা খালে পরিনত নয়। বড়ালের উৎস মুখে পলি মাটি জমে পানি প্রবাহ বাধা সৃষ্টি করতে থাকে। বিভিন্ন সময় খনন কাজ করা হলেও পানি প্রবাহ বৃদ্ধি না পেয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা জলে চলে যায়। ফলে বড়ালের উপর নির্মিত স্লুইস গেটটি অপসারণ করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে পরিবেশবিদ সহ স্থানীয়রা।
তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৯ মে চারঘাটের বড়াল নদী পরিদর্শনে গিয়ে সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বড়াল নদের পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রমত্তা বড়াল নদের পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
এক সময়ের প্রমত্তা বড়াল নদের পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য এরই মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভরাট হয়ে যাওয়া বড়াল নদের ১৮ কিলোমিটার অংশে তাই পুনঃখনন করা হবে। আর বড়ালের মুখের স্লুইচগেট অপসারণ করা হবে।
উপদেষ্টার এমন ঘোষণার পরে গত ১২ জুন থেকে চারঘাটে বড়ালের উপর নির্মিত স্লুইসগেট অপসারণের লক্ষ্যে স্লুইস গেটের কপাট খোলার কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিটি কপাটের প্রস্থ ১০ ফুট করে, মোট ৩০ ফুট। ইতিমধ্যে তিনটি গেট সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বড়ালে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করছেন পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মহোদ্বয়ের নিদের্শক্রমে বড়ালে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড়ালের উপর নির্মিত স্লুইসগেটের কপাট উত্তোলন করা হয়েছে। এতে আশা করা যায় মরা খালে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।