সর্বশেষ সংবাদ :

ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ডিজিটাল মিটারের মাধ্যমে বর্জ্যসহ আলুর পরিমাণ নির্ধারণের অভিযোগে রাজশাহীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিকেলে নগরীর বায়া এলাকায় রহমান সীর্স কোল্ড স্টোরেজের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচ শতাধিক চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। অর্ধ দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে তারা দুই দফা দাবি উত্থাপন করেন। তা হলো কোল্ড স্টোরেজে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ ও ডিজিটাল মিটারে অনিয়ম রোধ।
আন্দোলনকারীরা জানান, রাজশাহীতে বর্তমানে ৩৬টি হিমাগার রয়েছে। এতে ধারণ ক্ষমতা ৯৫ লাখ বস্তা আলু। যার ওজন প্রায় ৫ লাখ টন। আন্দোলনে অংশ নেয়া আলু চাষি আহাদ আলী জানান, প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণের জন্য আগে ৪ টাকা ভাড়া দিতে হতো। এবার তা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা করা হয়েছে। এমনিতেই আলুর দাম কম। এর উপর আবার ভাড়া বাড়লে লোকসানগুনতে হবে। তিনি আরও বলেন, আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমাতে হবে। আমাদের এ দাবি মানা না হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজও অবরোধ করা হবে।
তারা জানান আলু সংরক্ষণের নামে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং ডিজিটাল মিটারের ওজনে বর্জ্যসহ আলুর পরিমাণ গণনা করে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। কর্মসূচি চলাকালে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় চাইলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা বায়া সড়ক অবরোধ করবেন এবং পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। পরে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনে অংশ নেন, আলুচাষি কাম ব্যবসায়ী হাসান, সালাম, আহাদ আলী, কামরুল, বাবু, গাফ্ফার, আলাউদ্দিন, মোজাম্মেল, মাইনুল, আব্দুল মতিন, আতাউর রহমান, আফজাল, আব্দুর রাজ্জাক, শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
এব্যাপারে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘গত বছর বস্তা হিসেবে হিমাগারে আলু নেয়া হয়েছে। ৫০ কেজির বস্তায় ৩৪০ টাকা ভাড়া নেয়া হয়। এর ফলে কেজি প্রতি সংরক্ষণে খরচ পড়ে প্রায় সাত টাকা। কিন্তু আলুর মধ্যস্বত্ত্বভোগী ব্যবসায়ীরা বস্তায় ৭০-৮০ কেজি পর্যন্ত আলু ঢুকিয়ে দেন। ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার আলুর কেজি দরে ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’


প্রকাশিত: June 13, 2025 | সময়: 4:34 am | সুমন শেখ