বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবায় গভীর নলকূপ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ ওঠেছে। যার কোন জমি নেই এমন ব্যক্তি ওই ডিপটি দখলে রেখেছেন বলে দাবি করেছেন পবা বিএমডিএ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত অপারেটর। ঘটনাটি ঘটেছে পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার বরইকুড়ি-২ গভীর নলকুপে। বাগসারা গ্রামের মুন্তাজ আলীর ছেলে সোহেল রানা জোর করে ডিপ অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন।
এতে যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগি জুলেখা খাতুন বিউটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু কোন দপ্তরই তাকে ডিপের অপারেটরের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে পারেন নি। এদিকে ডিপের কাছে আসলে অবৈধ অপারেটর সোহেল রানার প্রাণ নাশের হুমকিতে নিয়োগপ্রাপ্ত নারী ডিপ অপারেটর জুলেখা খাতুন বিউটি আতঙ্কর মধ্যে রয়েছেন।
জানা গেছে, বাগসারা গ্রামে বরইকুড়ি-২ গভীর গভীর নলকুপটি বরইকুড়ি জেএল নং ৯৯, দাগ নং ২ স্থাপন (বসানো) করা হয়। গভীর নলকুপটি নিয়োগপ্রাপ্ত বৈধ ভুক্তভোগি জুলেখা খাতুন বিউটির নামীয় জমিতে অবস্থিত। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ভুক্তভোগি জুলেখা খাতুন বিউটির মা অপারেটরের দায়িত্ব পালন করে। ২০০৪ সাল হতে ভুক্তভোগি জুলেখা খাতুন বিউটি নিষ্ঠার সাথে অপারেটরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর পুনরায় নবায়ন করা হয়। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারী কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগপত্রও দেন। কিন্তু স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহেল রানা জোর করে ডিপের ঘরে প্রথমে তালা দেন। এরপর থেকে সোহেল রানা জোর করে ডিপটি পরিচালনা করছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ‘ডিপটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জুলেখা খাতুন বিউটির মা অপারেটর ছিলেন। এরপর থেকে ভুক্তভোগি জুলেখা খাতুন বিউটি অপারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। এই ডিপে কোনদিন পানির দাম কমবেশী নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হয়নি। জুলেখা খাতুন বিউটির মাটিতেই ডিপটি রয়েছে। সেক্ষেত্রে সেই অপারেটর হওয়ার শতভাগ দাবি রাখে। আমি ভালমন্দ বলব না। আমার জানা মতে সোহেল রানার ওই ডিপের আওতায় কোন জমি নেই। কিন্তু আমরা কারও পক্ষে-বিপক্ষে নই’।
বরইকুড়ি-২ গভীর নলকুপ এর অধিনে সর্বোচ্চ জমি চাষ করেন কৃষক মো: ফজর আলী। তিনি বলেন, এই গভীর নলকুপের অধিনে প্রায় দুইশত বিঘা জমি আছে। আগে গভীর নলকুের অপারেটর ছিল ওয়াহাব আলীর স্ত্রী। তিনি প্রায় ২৫-৩০ বছর যাবত গভীর নলকুপ অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরবর্তীতে নিয়োগ পেয়েছেন জুলেখা খাতুন বিউটি কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন সোহেল রানা। আগেও ঠিকমত জমিতে পানি পেয়েছি এখনও পাচ্ছি। কোন সমস্যা হয় নি আমরা কৃষকরা ঠিকমত ক্ষেতে পানি পেলেই খুশি। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত আছে একজন কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন আরেকজন এই সমস্যার সমাধান জরুরি প্রয়োজন।
স্বঘোষিত ডিপ অপারেটর সোহেল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ডিপের অপারেটর হিসেবে তিনজন পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অপারেটর হিসেবে কোন ডকুমেন্টস আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কাছে লিখিত কোন ডকুমেন্টস নাই। আমার পিছনে আরোও লোক আছে। তবে সোহেল রানা অকপটে স্বীকার করেছেন স্থায়ীয় জামায়াত ও বিএনপির ছত্রছায়ায় তিনি ডিপটি অপারেট করছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নাজিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, ওই ডিপে আমার জমি আছে। আমি একজন কৃষক। ১৭ বছর থেকে ডিপটির অপারেটর অনেক অনিয়ম করেছে। এসব অনিয়মের জন্য বিএমডিএ বরাবরে অনেক আবেদন করা হয়েছে। নিজেরা যেয়েও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে-অপারেটর পরিবর্তন করতে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আগের প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিকেই অপারেটর নিয়োগ দিয়েছে। ডিপটি যে নারীর নামে নিয়োগ আছে-তার পিতা ওহাব আলী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয়কর্মী এবং মানুষও সুবিধার নয়। তাই স্থানীয় কৃষকরা সোহেল রানাকে অপারেটর করে ডিপটি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
জামায়াত নেতা মশিউর রহমান বলেন, ‘ডিপ বিষয়ে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এলাকার কৃষক যাকে চাইবে সেই অপারেটরের দায়িত্ব পাবে বলে আমি প্রত্যাশা করি’।
নিয়োগপ্রাপ্ত ডিপ অপারেটর জুলেখা খাতুন বিউটির পক্ষে তার স্বামী শাহিন বলেন, ১৯৯৪ সালে ডিপটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঠিক থেকে আমার শ্বাশুড়ি এই ডিপের অপারেটর ছিলেন। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোন কৃষক আমার শ্বাশুড়ি ও স্ত্রীর কোন অভিযোগ করেননি। ৫ আগস্টের পরে নতুন করে ইস্যু তৈরী করে মিথ্যা কথা বলছেন তারা। তাছাড়া কর্তৃপক্ষ সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করেই তো আমার স্ত্রীকে অপারেটরের দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তামানে জামায়াতে যুব বিভাগের কর্মী সোহেল রানা জোর করে ডিপটি দখলে রেখেন।
পবা উপজেলা বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলী মো: জামিনুর রহমান বলেন, বরইকুড়ি-২ ডিপ অপারেটর হিসেবে জুলেখা খাতুন বিউটি এক বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন সোহেল রানা নামে একজন। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এটা চেন্জ (পরিবর্তন) হয়ে যেতে পারে। আইনে আছে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেখা, কোনভাবেই যে অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সে অপারেটর যদি কোনভাবেই দায়িত্ব নিতে না পারে বা বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ দেওয়াতে না পারে তখন রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে কৃষকরা কি চায় সে মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ঐ মেয়াদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে যে দায়িত্ব পালন করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোহেল রানা নামে একজন জোর করে অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন।
পবা থানা সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা ইকরামুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ডিপ কর্তৃপক্ষ বিএমডিএ। ডিপ অপাররেটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন একজন কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন আরেকজন। বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে ডিপ বুঝিয়ে দেয়নি। এ বিষয়ে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে তার মাটির ওপর অবস্থিত ডিপের অপারেটরের দায়িত্ব ফিরে পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিপ অপারেটর জুলেখা খাতুন বিউটি।