সময়ের আগেই বাজারে গোপাল

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি আমের মৌসুমে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে আগেভাগেই উঠেছে গোপালভোগ আম। যদিও কৃষি বিভাগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই জাতের আম বাজারে আসার কথা ২২ মে, কিন্তু ইতোমধ্যেই সাহেববাজার, কোর্টবাজার, নিউ মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন বাজারে গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এসব আম রাজশাহীর বাইরের এলাকা থেকে আসতে পারে। যদিও রাজশাহীর কয়েকজন চাষি আম পাকতে শুরু করার কথা জানালেও, এখনো অধিকাংশ বাগানে আম পুরোপুরি পাকে নি এবং আম পাড়ার জন্য প্রশাসনের অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক আম বাইরের দিক থেকে পাকা মনে হলেও ভেতরে কাঁচা। কিছু আমে কৃত্রিম পাকানোর আলামতও রয়েছে গায়ে আঠালো স্তর দেখা যাচ্ছে।
সাহেব বাজারে গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকায়, যা দাম এবং গুণগত মান দুটোর দিক থেকেই সাধারণ ক্রেতাদের অসন্তুষ্ট করেছে।
ক্রেতা ফিরোজ আলী জানান, এখন গুটি আম থাকার কথা, অথচ বাজারে গোপালভোগ উঠেছে। খেতে যেমন ভালো না, দামও বেশি।
আরেক ক্রেতা রায়হান আলী বলেন, বাইরে দেখে পাকা মনে হলেও কাটার পর দেখা যায় ভেতরে একদম কাঁচা। স্বাদও নেই। দাম দিয়ে ঠকেছি।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে আগ্রহ বেশি থাকায় কিছু আম আগেই তুলতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ফলস্বরূপ, আমের স্বাদ যেমন ভালো হয়নি, তেমনি বিক্রিও আশানুরূপ হচ্ছে না।
খড়খড়ি বাইপাস এলাকার চাষি মারুফ হোসেন বলেন, বাগানে কিছু আম পাকতে শুরু করলেও পুরোপুরি নয়। এখনও পাইকার আসেনি, তাই কিছু আম আগেভাগে তুলেছি। স্বাদ যাচ্ছে, দামও ঠিকমতো পাচ্ছি না।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে সালমা বলেন, ২২ মে গোপালভোগ আম বাজারে আসার কথা। তবে কোনো কৃষক আম পাড়তে চাইলে আমাদের কাছে আবেদন করতে হবে। আমরা দেখে অনুমতি দেব। কয়েকজন মৌখিকভাবে অনুমতি চেয়েছেন, আমরা তাদের কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি।
তিনি আরও বলেন, গরম বেশি থাকায় কিছু আম আগেভাগে পাকতে পারে। তবে অনুমতি ছাড়া আগাম আম পাড়া ঠিক নয়। এতে কৃষক, ক্রেতা ও বাজার—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৫ | সময়: ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ