, , ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩ প্রভাবশালী নেতা ও ইউপি সদস্যকে আটক করে পুলিশে সৌপর্দ করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। রোববার দুপুরে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ৩ ইউপি সদস্যরা হলেন ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন বাকী, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম মাঝি ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন খাঁন।
এদের মধ্যে ফিরোজ হোসেন বাকী ও আলাউদ্দিন খাঁন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রফিকুল ইসলাম মাঝি দাশুড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম শিমুল জানান, গত ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যরা পলাতক ছিলেন। তারা ইউনিয়ন পরিষদে আসছিলেন না।
গত বুধবার থেকে চার জন ইউপি সদস্য পরিষদে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করেন। রোববার সকালে ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন বাকী, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম মাঝি, ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আলাউদ্দিন খাঁন ও ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহীম হোসেন পরিষদে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যে এই খবর প্রকাশ হয়ে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উত্তেজিত শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে পরিষদের ভেতরে থাকা সদস্যদের ঘিরে ফেলে। সে সময় তারা আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্যদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
অবস্থার বেগতিক দেখে চতুর ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহীম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনরোষ থেকে তিন ইউপি সদস্যকে ঈশ্বরদী থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, পুলিশ হেফাজতে নেওয়া তিনজন মেম্বারই আওয়ামী লীগ নেতা। তারা ইউনিয়ন পরিষদে গেছেন এমন খবর প্রকাশ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন পরিষদেই তাদের ঘিরে ফেলে। কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার আগেই তাদের থানা হেফাজতে নেয়া হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেফাজতে নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দ্দিষ্ট মামলা রয়েছে কি না সেটা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।