, , ।
সানশাইন ডেস্ক: আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেকে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। ক্রমশ এই পয়লা বৈশাখ সারা ভারত তথা বাঙলারও একটা ঐতিহ্যমণ্ডিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে পরিণত হল।
বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ
নববর্ষ উদযাপন উনবিংশ শতাব্দীর গোড়াতে হলেও (১৯১৭) তা জনপ্রিয় হতে অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে। স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশে পাকিস্তানি শাসকরা বারবার বাঙালি সংস্কৃতিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। তার অংশ হিসেবে সে সময় রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং তারই প্রতিবাদে ১৯৬৫ সালে ঢাকার রমনা পার্কের বটমূল বা অশ্বত্থমূলে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন করে আসছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানট’। আর বৈশাখ বরণে বাড়তি রঙ লাগিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের ২০ ফাল্গুনে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল বৈশাখকে, যে ধারা আজও অব্যাহত। কাহারবা তালের এই গানটি রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিভাবনার নিপুণ এক নির্মাণ। গানটিতে সুর ও বাণীর অপূর্ব মেলবন্ধন থাকায় তা বাঙালিচিত্তকে একসুতোয় গেঁথে রেখেছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ সাল থেকে বৈশাখী উৎসব মূলত জাতীয় উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উৎসবটিকে আরও মহিমান্বিত করতে ১৯৮০ সাল থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রার। আজ এই গান ও শোভাযাত্রা যেন বাংলার প্রতিটি মানুষের মনের গান, প্রাণের পার্বণ। বৈশাখ এলেই আমরা অনুভব করি অসাম্প্রদায়িক এই সাংস্কৃতিক উৎসব কতোটা শক্তিশালী।
হারিয়ে ফিরে পাওয়া
স্মৃতির অতলে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে বর্ষবরণ ঘিরে পুরোনো অনেক কিছুই। নববর্ষের প্রাক্কালে চৈত্র সংক্রান্তির দিবাগত রাতে নতুন ঘটে জল ঢেলে তাতে আতপ চাল ভিজিয়ে রেখে কচিপাতাযুক্ত আমগাছের চিকন ডাল ভিজিয়ে রাখা হত। পর দিন সকালে বাড়ির সবাইকে সেই ভেজানো চাল খেতে দিয়ে, আমের ডাল জলে ভিজিয়ে সবার শরীরে ও ঘরের চারদিকে ছড়ানো হত সার্বিক মঙ্গলকামনায়। ছোট বড় সকলের কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে পুজোর জলখাবারে দেওয়া হত নুন আর আদাকুচি দিয়ে মাখা মুগডাল ভিজে, নুনলেবু দিয়ে মাখা শশা নারকোল, কাঁঠালি কলা, দই মিষ্টি ইত্যাদি।
মল কালচারের এ যুগে এই একটি দিন মেকি হলেও সাজপোশাক এবং খাওয়াদাওয়াতে চুনোট দেওয়া ঐতিহ্যের কুঁচি তুলে কাকের ময়ূরপুচ্ছ ধারণের মতো মেলে ধরতে চায় বাঙালি। নতুন জিনসের সঙ্গে আঁতেল মার্কা বাঙলা ভাষায় লেখা হাফ হাতা ফতুয়া গোছের পাঞ্জাবি গায়ে বান্ধবীকে নিয়ে বাঙালি থালি সাঁটানোর ভিতরেই হাতকড়া পরে রয়ে গিয়েছে সভ্যতার সংকট।