সর্বশেষ সংবাদ :

মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকদের বিক্ষোভ : আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: ১৯৯৩ সাল থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তবে এই তিনমাস ধরেও শিক্ষকেরা শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এ প্রকল্পের শিক্ষকরা ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা সম্মানী পান। শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম আর প্রকল্পের মাধ্যমে চলবে না। ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নেওয়া হবে। এটা হলে যারা বছরের পর বছর শিক্ষকতা করছেন, তারা চাকরি হারাবেন। তাই, ঈদের আগেই বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং জনবল আউটসোর্সিংয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে রাজশাহীতে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকরা বিক্ষোভ করেছেন। পাশপাশি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
রাজশাহীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামারা। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তারা এই বিক্ষোভ করেন।
এই কর্মসূচিতে রাজশাহী জেলা ও মহানগর এলাকায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামা অংশ নেন।
এরপর ঈদের আগেই বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং জনবল আউটসোর্সিংয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক কেয়ারটেকার ঐক্য পরিষদ, রাজশাহীর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তবে এই তিনমাস ধরেও শিক্ষকেরা শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। সেই টাকাও তিনমাস ধরে পাননি শিক্ষকেরা। সামনে ঈদ, এই ইমাম, মুয়াজ্জিন, আলেম-ওলামাদের ঘরে ঈদ আসেনি। এই রমজানে যখন তাদের ইবাদত-বন্দেগিতে সময় পার করার কথা, তখন সামান্য বেতনের জন্য তাদের আন্দোলনে আসতে হচ্ছে।
আরেক ফিল্ড সুপারভাইজার মোস্তাক আহমেদ বলেন, সম্প্রতি তারা জেনেছেন যে শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম আর প্রকল্পের মাধ্যমে চলবে না। ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নেওয়া হবে। এটা হলে যারা বছরের পর বছর শিক্ষকতা করছেন, তারা চাকরি হারাবেন। তারা এই সিদ্ধান্ত বাতিল চান। তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মাস্টার ট্রেইনার মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে এই মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চলতে পারে না। সকলকে রাজস্ব খাতে নিতে হবে। এটা সকলের প্রাণের দাবি। দাবি আদায় না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।’
নওগাঁ: মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের জনবল রাজস্বকরণ সহ পাঁচদফা দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন করেছে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকরা। রবিবার দুপুরে শহরের মুক্তির মোড় জেলা মডেল মসজিদের সামনে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষক-কর্মচারী ও কেয়ারটেকার ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলার ১১উপজেলার পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেন।
মানববন্ধনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মাস্টার আশরাফুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশ নওগাঁ পৌর কমিটির নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ও উপজেলা জামাতের আমির অ্যাডভোকেট আসম আবু সায়েম শিক্ষকদের দাবির প্রতি একাত্বতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ফিল্ড অফিসার তাওফিকুর রহমান, ফিল্ড সুপারভাইজার আকবর হোসেন, মডেল কেয়ারটেকার ওমর ফারুক, সাধারণ কেয়ারটেকার অহিদুল ইসলাম, শিক্ষক মাওলানা মকবুল হোসেন, মাওলানা শাহ আলম ও মাওলানা শাহজাহান আলী।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি চালু থাকলেও এটি স্থায়ী করা হয়নি। ফলে শিক্ষকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এদিকে প্রকল্পের জনবলকে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে দেওয়ার পায়তারা চলছে। আবার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে নিয়োগ দিলে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা বঞ্চিত হবেন এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, প্রকল্পের ৭টি পর্যায় সফলতার পরও জনবল রাজস্ব খাতভুক্ত করা হয়নি। জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দীর্ঘ ৩২ বছর যাবত চলমান থাকলেও প্রকল্পে কর্মরত জনবলের মূল বেতন বছর বছর কখনো বৃদ্ধি করা হয়নি। তাই দ্রুত এই প্রকল্পটির জনবলকে রাজস্বখাতে স্থানান্তর, কর্মী, মডেল ও সাধারণ কেয়ারটেকারদের স্কেলভিত্তিক বেতন প্রদান ও শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি সহ আউটসোর্সিং ব্যতিরেকে প্রকল্পটি ঈদের পূর্বেই অনুমোদন করে বকেয়া সহ বেতন-বোনাস প্রদানের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দেন তারা।


প্রকাশিত: March 24, 2025 | সময়: 3:34 am | সুমন শেখ