সর্বশেষ সংবাদ :

গোদাগাড়ীতে ভিজিএফ’র অনিয়মে গোগ্রাম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টা, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গোগ্রাম ইউপি (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আসলামের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ও বিভিন্ন অনিয়মের ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
জানা যায়, চেয়ারম্যান আসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে গরিব ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল অবৈধভাবে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইউনিয়নে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সঠিক ভাবে তালিকা তৈরি না করে নিয়মবহির্ভূত ভাবে নিজস্ব লোক ও আত্মীয় স্বজনদের মাঝে চালের কার্ড বিতরণ করে।
২৩৮০ জন সুবিধাভোগীর জন্য বরাদ্দকৃত চাল সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকায় অনিয়ম করা হয়েছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
স্মারকলিপিতে জনগণ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিজিএফ সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশ করা। চাল বিতরণে অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করা। আসলাম আলীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা। তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া। দরিদ্র জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সহ জড়িত চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে গোগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান আসলাম আলী নানা অনিয়ম করে আসছেন। এবার তিনি ভিজিএফ চাউল আত্মসাৎ করে সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। আমরা চাই, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এছাড়া, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফারদপুর মোড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বটগাছ কাটার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে থাকা এ গাছ বিনা অনুমতিতে কেটে ফেলা হয়েছে, যা পরিবেশগতভাবে ক্ষতিকর।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে করে সরকারি প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, এবং জনগণ তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের চাহিদা মোতাবেক কার্ড না দেওয়ার কারণে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে গত ২০ শে মার্চ গোগ্রাম ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আড়াইহাজার কেজি চালসহ দুজনকে আটক করে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।


প্রকাশিত: March 24, 2025 | সময়: 3:31 am | সুমন শেখ