সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় প্রভাবশালীদের দখলে সেচযন্ত্র ক্ষেতে সেচ দিতে না পারার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার এক ব্যক্তির সেচ এলাকায় অতিরিক্ত সেচযন্ত্র বসিয়ে দখলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভবাশালীদের দখলে থাকায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজের ছয়বিঘা বোরোখেতে সেচ দিতে পারছেন না। বিকল্প ভাবে খেতে সেচ দেওয়ার চেষ্টা করলেও নানা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর তদন্ত করলেও সুরাহা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম সুকুমার প্রামাণিক। তিনি উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়নের ছোট কয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ও বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০০০ সালে ছোট কয়া এলাকায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে এর মাধ্যমে বোরোখেতে সেচ দিয়ে আসছিলেন। এজন্য কৃষকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিতেন। তবে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাওয়ার কারণে গত ২০১৫ সালে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমতি নিয়ে অগভীর নলকূপ স্থাপন করে বোরো ছাড়াও আমন এবং রবি মৌসুমে জমিতে টাকা ও ধানের বিনিময়ে সেচ দিয়ে আসছিলেন। উপজেলা সেচ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয় সেচ যন্ত্র চালানোর জন্য।
স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী সুনিল বন্ধু চৌধুরী গত ২০২৩ সালে সুকুমার প্রামাণিকের সেচযন্ত্রের পাশে গভীর নলকূপ বসিয়ে জমিগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি সেচ দিয়ে আসছেন। এতে সুকুমার প্রামাণিকের পরিচালনা করা নলকূপটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েন। এনিয়ে তিনি রাজশাহী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে সুরাহা চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।
দপ্তরগুলোর আলাদা তদন্ত কমিটিতে সুকুমার প্রামাণিকের অভিযোগের সত্যতা পায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী ও পল্লীবিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপককে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদন দেয়। তাঁরা প্রতিবেদন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে চলতি মৌসুমে ভুক্তভোগী সুকুমার প্রামাণিক তাঁর নিজস্ব ছয়বিঘা বোরোখেতে সেচ দিতে পারছেন না। অভিযোগ করার কারণে সুনিল বন্ধু চৌধুরী ক্ষুব্ধ হয়ে সেচ নালা বন্ধ করে দেন। এর ফলে নিজের জমিতে পানি সেচ দিতে বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে ৮০০ ফিট দূর থেকে একটি পুকুর থেকে ফিতা পাইপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে বোরোচাষের জন্য খেত প্রস্তত করেছেন। তবে এভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। হয়ত ছয়বিঘা জমি অনবাদী থাকবে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে সুকুমার প্রামাণিকের জমিতে পুকুর থেকে ফিতা পাইপের মাধ্যমে সেচ দিতে দেখা যায়। সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে সেখানে বোরো চাষ করবেন বলে জানান। তবে শেষ পর্যন্ত সম্ভব হবে কী না এনিয়ে উদ্বিগ্ন। এছাড়াও সুকুমার প্রামাণিকের অগভীর নলকুপের পাশে আরও দুইটি গভীর নলকূপ দেখা যায়। সেখান থেকে ওই এলাকার বোরোখেতে পানি সেচ দিতে দেখা যায়। মাঝখানে সুকুমার প্রামাণিকের ফাঁকা জমি চোখে পড়ে।
এই বিষয়ে সুনিল বন্ধু চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কৃষকদের সুবিধার জন্য তিনি গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ দিচ্ছেন। এর বেশি কিছু বলতে চাননি।
তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক, বরেন্দ্র দপ্তরের বাগমারার সহকারী প্রকৌশলী (অন্যত্র বদলি) শাহাদাত হোসেন ও নাটোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগমারার আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক মোস্তফা আমিনুর রাশেদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম প্রতিবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।


প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৫ | সময়: ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ