সর্বশেষ সংবাদ :

বিভাগের প্রতিটি জেলায় ঘুরে খাদ্যের মান পরীক্ষা করবে

স্টাফ রিপোর্টার: প্রতিদিন আমরা হোটেল, দোকান থেকে কিনে যা খাচ্ছি তার বেশির ভাগই অনিরাপদ। যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে নানান রোগ। জনবহুল দেশে এতো বড় বাজারে অভিযান পরিচালনা করে ভেজাল কিংবা মানহীন খাদ্যপণ্য বের করা বেশ কষ্টকর। তবে, বিভাগীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। রাজশাহী বিভাগে খাদ্যের ভেজাল প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগ ঘুরবে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারটি। খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করবে। পরীক্ষায় ভেজাল কিংবা মানহীন খাদ্যপণ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। সচেতন করা হবে ভোক্তাদের। কোনো ভোক্তা চাইলে তিনিও বাজার থেকে নমুনা নিয়ে বিনা মূল্যে পরীক্ষা করাতে পারবেন এই পরীক্ষাগারে।
রাজশাহী বিভাগে খাদ্যের ভেজাল প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারের উদ্বোধন করলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। বুধবার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে পরীক্ষাগারটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের সময় বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এই ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, রাজশাহী একটি পরিচ্ছন্ন নগরী। ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে প্রথম হয়েছে রাজশাহী। এই নগরীর জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিমাসে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় আগামী ৯ অক্টোবর থেকে রাজশাহীসহ এই বিভাগের আটটি জেলায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে খাদ্যের নিরাপদতা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে এবং মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিভিন্ন দিক থেকে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারে- মাইক্রোস্কোপ, অটোক্রেড, ইনকিউবেটর, এটিপি সোয়াব টেস্ট, কলোনী কাউন্টার, সেন্ট্রিফিউজ, ভরটেক্স, টঠ স্পেকট্রোফটোমিটার, হিট সেন্সরসহ মোট ১৬টি যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষণের জন্য বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যালের সাহায্যে পাউরুটি, মধু, দুধ, ঘি, মাখন, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, বিভিন্ন মশলার গুঁড়া, বিভিন্ন প্রকারের ডাল, ভোজ্য তেল, নারিকেল তেল, সবুজ শাক-সবজি, আইসক্রিম, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য পণ্যের ৩৭টি সেফটি প্যারামিটার পরিবীক্ষন করে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফলাফল দেওয়া সম্ভব।’
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার প্রত্যয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। আগে পরীক্ষাগার ছিল একটা স্থায়ী জায়গায়। এখন মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যানের মাধ্যমে পরীক্ষাগারের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প থেকে এই ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা এই পরীক্ষাগারের দায়িত্বে থাকবেন। কোন দিন বিভাগের কোন জেলায় এই পরীক্ষাগার থাকবে, তার একটি সূচি মাসের শুরুতেই করা হবে। রাজশাহী ছাড়া বিভাগের অন্য কোনো জেলায় পরীক্ষাগারটি একবার গিয়ে দুই দিনের বেশি থাকবে না। দিনে প্রয়োজনীয় স্থানে পরীক্ষাগারটিকে নিয়ে যাওয়া হবে। রাতে পরীক্ষাগারটি রাখা হবে সার্কিট হাউসে।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, যেসব এলাকায় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হয় সেখানে গাড়িতে থাকা এই পরীক্ষাগার নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানানো হবে। কোথাও খাদ্যপণ্যে ভেজাল পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করা হবে। তারপর এই খাদ্যপণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে। তাঁরা এসব খাদ্যপণ্য গ্রহণ করবেন না। ফলে তাঁরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে।
ইয়ামিন হোসেন আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প চলবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। এই সময়ে সাধারণ ভোক্তারাও নমুনা এনে বিনা মূল্যে পরীক্ষা করতে পারবেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে এ সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।
সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামীল, অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ফয়সাল মাহমুদ, স্বাস্থ্য বিভাগ রাজশাহীর পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবীর, বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ দফতর রাজশাহীর ড. মো. আব্দুল হাই সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহমুদুল ফারুক, বিভাগীয় মৎস্য দফতর রাজশাহীর উপ-পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন, বিএসটিআই আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক জহুরা সিকদার, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. সাদরুল ইসলাম, নানকিং চাইনিজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. এহসানুল হুদা দুলু, রাজশাহী বিভাগীয় কনজিউমার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত প্রমুখ।


প্রকাশিত: October 17, 2024 | সময়: 5:59 am | সুমন শেখ

আরও খবর