বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান, বাঘা: মনের মতো কচু, বেগুন কিংবা মিষ্টি কুমড়া কিনতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে বাঘার হাটে। বাঘার হাটে পাওয়া যায় দেশ বিখ্যাত বাউসার কচু , চরাঞ্চলে উৎপাদিত বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া। যার সমাদর রয়েছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে। এ হাটে কেনা বেচা হওয়া বিভিন্ন সবজির বড় একটি অংশ স্থানীয় চাহিদা পুরণ শেষে চলে যাই রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের অভ্যান্তরে।
রাজশাহী জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঘার হাট। এই হাটে পাওয়া যায় স্থানীয় ভাবে উৎপন্য সকল প্রকার সবজি। এরমধ্যে পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত চকরাজাপুর ইউনিয়নকে বলা হয় সবজি ভান্ডার। এই হাটের বেশির ভাগ ক্রেতারা অত্র অঞ্চলের বাসিন্দা হলেও বিক্রেতাদের অধিকাংশ জনই চরাঞ্চলের মানুষ। পদ্মার প্রত্যান্ত চরের ধূ-ধূ প্রান্তর জুড়ে চাষ করা হয় বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ও পটল-আলু-সহ সকল প্রকার সবজি। আর সমতল এলাকার ২২ পাড়া নিয়ে গঠিত বাউসা গ্রামে উৎপাদন হয় দেশ বিখ্যাত কচু। এ ছাড়াও এই মুহুর্তে পাওয়া যাবে বাউসায় উৎপন্য তাল বেগুন। এটি দেখতে তালের মত গোলাকার,সাইজ অনেক বড়, স্বাদ অন্য যে কোন বেগুনের চেয়ে আলাদা। এ কারনে দিন-দিন এর চাহিদা বাড়ছে। অপর দিকে এখানকার কচু খুব সহজে গরম পানি দ্বারা সিদ্ধ হয় এবং রান্নার পর খেতে বেশ নরম ও সু-স্বাদু হওয়ার কারণে এর চাহিদা অনেক বেশি বলে জানান এলাকাবাসী।
সরেজমিন বাউসা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ঐ গ্রামের যুবক আমিনুর রহমান কৃষি কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে একজন আদর্শ কৃষক হিসাবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে তাল বেগুন সহ দেশ বিখ্যাত কচু ক্ষেত। আমিনুরের ক্ষেতে বর্তমানে বেগুনের যে উৎপাদন তা থেকে আশা করা যাচ্ছে, মাত্র দুই বিঘা জমি থেকে তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা আয় করবেন। এ ছাড়া কচু চাষ করেও তিনি আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। এখানকার কচুর গুনগত মান ভাল হওয়ায় এটি আমদানি করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
এদিকে পদ্মার কিনার ঘেষা চরবাসীদের শ্রম আর ভালবাসার মধ্যে দিয়ে এখানে উৎপাদন হচ্ছে সবুজ রঙ্গের বেগুন আর মিষ্টি কুমড়া ছাড়াও হরেক রকম সবজি। পদ্মার চরে উৎপন্ন হওয়া বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া-সহ অন্যান্য সবজি নিয়ে সপ্তায় দু’দিন বাঘার হাটে আসেন অত্র চরাঞ্চলের সাধারণ ব্যবসায়ী ও কৃষক। হাটের দিন সকাল বেলা মুলত: পাইকারী সবজি ক্রয় বিক্রয় হয়। কৃষকরা তাদের উৎপন্ন বেগুন এবং অন্যান্য পসরা সাজিয়ে বসেন উন্মুক্ত হাটে। এরপর একটানা সন্ধে পর্যন্ত চলে কেনা-বেচা।
বাঘার হাট উপজেলার প্রানকেন্দ্রে অবস্থান করায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যর সর্বোচ্চ দর পেতে চান এই হাটে। অপর দিকে পাইকারী সবজি ব্যবসায়ীরা কিনতে চান কম দামে অধিক ভাল সবজি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দর-কষাকষির মাধ্যমে এই সকল বেগুন,মিষ্টি কুমড়া ও কচু-সহ অন্যান্য সবজি ক্রয় করে চালান দেন রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আর কৃষক তার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ফলানো ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচাপাতি করে ফিরে যান আপন গৃহে। সাধারণ লোকজনের মতে, বাঘা হাটের মিষ্টি কুমড়া , কচু , বেগুন ও পটল-সহ হরেক রকম সবজির গুনগত মান ভালো হওয়ার কারণে এখানে জায়গা করে নিয়েছেন সকল প্রকার মানুষ, তাদের প্রতিদিনের বাজারের তালিকা।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এ উপজেলায় সকল প্রকার ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। বিশেষ করে উপজেলার সমতল এলাকার ৬ টি ইউনিয়নে যে পরিমান সবজি চাষাবাদ করা হয় ,তার সমপরিমান চাষ হয় পদ্মার চরাঞ্চলে। এ দিকে থেকে আমরা যে কোন পসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নানা রকম পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজির মধ্যে বেগুন, কচু, মিষ্টি কুমড়া, আলু, পটল, পেঁয়াজ ও রসুন বেশ সমাদৃত।