বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে বিদ্যমান শতবর্ষী গাছ না কেটে শহীদ মিনার নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেছেন।
প্রেরিত এ পত্রে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধগণ উল্লেখ করেন, রাজশাহী মহানগরীর সোনাদীঘি এবং হেতেম খাঁ এলাকার মধ্যবর্তী রাজারহাতা অঞ্চলে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের বিপরীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে বিদ্যমান দশটিরও অধিক শতবর্ষী গাছ কাটার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজশাহী জেলা পরিষদ।
ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ কর্তৃক কাটার জন্য শতবর্ষী গাছগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত গাছগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটির বয়স একশ বছর, আবার কোনো কোনো গাছের বয়স তারও অধিক।
তাঁরা উল্লেখ করেন, শতবর্ষী এ গাছগুলো রাজশাহীবাসীর ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত। প্রায়শই অত্যন্ত তাপদাহে বিপর্যস্তএ নগরবাসীর স্বস্তির আশ্রয় হিসেবে এ গাছগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণভূমিকা রেখে আসছে এ গাছগুলো। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধগণের মতে, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর রাজশাহী শহরে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এমন একটি শহীদ মিনার নির্মিত হলে নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ভাষা শহীদদের আত্নত্যাগ এর সাথে পরিচিত হবে। তবে তা জনগুরুত্বপূর্ণ ও শতবর্ষী গাছের বিনিময়ে হতে পারে না। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শতবর্ষী এ গাছগুলোর রেখে শহীদ মিনার নির্মাণ করাই হবে যৌক্তিক উদ্যোগ।
প্রেরিত এ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইহা সর্বজনবিদিত যে, গাছ তাপমাত্রা কমাতে, বায়ুমণ্ডল শীতল রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষজ্ঞগণ তাপমাত্রা সহনীয় রাখতে ও তাপদাহ কমাতে বারবার গাছ লাগানোর পরামর্শ প্রদান করেছেন এবং গাছ কাটাকে নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানিয়েছেন। কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক টি এম দাশ এর গবেষণা অনুযায়ী, ৫০ বছর ধরে বেঁচে থাকা একটি গাছ ৩১ হাজার ২৫০ ডলার মূল্যের অক্সিজেন তৈরি করতে, ৬২ হাজার ডলার মূল্যের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে, ৩১ হাজার ২৫০ ডলার মূল্যের সমান মাটির ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে, ৩৭ হাজার ৫০০ ডলার মূল্যের পানি পুনঃব্যবহার উপযোগী করতে এবং প্রাণীদের জন্য ৩১ হাজার ২৫০ ডলার মূল্যের আবাসন দিতে সক্ষম হয়ে থাকে। তাই নির্বিচারে গাছ কর্তন অবশ্যই পরিহার করতে হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধগণ উল্লেখ করেন, প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের নিরাপত্তার বিধানে সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে অঙ্গীকার করেছে রাষ্ট্র। ফলে যেকোন উন্নয়ন কার্যক্রমই পরিবেশ রক্ষা করে করতে হবে। পুরাতন ও ঐতিহাসিক বৃক্ষ রক্ষায় সরকার বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর ২৩ ধারার বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন পাখির আবাসস্থল হিসেবে উল্লেখিত বৃক্ষগুলোকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষনার সুযোগ রয়েছে।
প্রেরিত এ পত্রের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধগণ রাজশাহী মহানগরীর সোনাদীঘি এবং হেতেম খাঁ এলাকার মধ্যবর্তী রাজারহাতা অঞ্চলে নির্মিতব্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে বিদ্যমান শতবর্ষী গাছ কাটার সকল উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে গাছগুলো রেখে শহীদ মিনার নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছেন। সেইসাথে চিহ্নিত এ পুরানো ও শতবর্ষী গাছগুলোকে জাতীয় ঐতিহ্য বৃক্ষ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন তাঁরা।