, , ।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তি নির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও কৃষিতে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি সরকার।
শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ব্রি-প্রস্তাবিত আঞ্চলিক কার্যালয়, টাঙ্গাইলের আওতায় স্থাপিত প্রযুক্তি গ্রামের কার্যক্রম নিয়ে ধনবাড়ীর কিসামত এলাকায় কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন যোগ দিয়ে মন্ত্রী প্রযুক্তি গ্রামের আগাম জাতের আমন ধান কর্তন উদ্বোধন করে রাস্তার পাশে বৃক্ষ রোপন কালে এসব কথা বলেন।
দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নেয়া পদক্ষেপের নানা দিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিকে ডিজিটাল এবং প্রযুক্তি নির্ভর করতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করছে।
কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষি সেবা, মোবাইল ভিত্তিক আবহাওয়া তথ্য, বাজার তথ্য, কৃষি পরামর্শ, ই-এক্সটেনশন সেবার সম্প্রসারণ এবং কৃষি সেবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে কৃষি শিল্পের আধুনিকায়নে সরকার কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস, ড্রোন প্রযুক্তি, জিআইএস, স্যাটেলাইট তথ্য, বিগ ডাটা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য ও ফলন পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা অধিক কার্যকর ও বিজ্ঞান ভিত্তিক হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ ও সরকারি সেবা কৃষকের নিকট, সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বিজ্ঞানীরা ধানের নতুন নতুন জাত অবিষ্কার করেছেন। কৃষকের দোড় গোড়ায় গিয়ে কৃষি বিভাগ কৃষককে লাভবান করতে তারা তাদের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মনে করি বর্তমান কৃষিমন্ত্রী তিনি অত্যন্ত দক্ষ তিনি নিরলস পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে কৃষি কে বহু গুনে এগিয়ে নিতে পারবে। এবং কৃষককে বিনামূল্যে বীজ, সার সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে কৃষি খাত কে এগিয়ে নিতে সরকার সব সময় কৃষকের পাশে রয়েছে। ’
উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় আমারা সারা বাংলাদেশে ধান গবেষনার মোট ৬ টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করার মাধ্যমে ধান ভিত্তিক গবেষনাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে সারা দেশের কৃষি কে সম গুরুত্বের আওতায় এনে স্থান ভিত্তিক ধানরে জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছি।
বাংলাদেশ চিনি শিল্প ও খদ্য কর্পোরশনের চেয়ারম্যান অ্যাভাকেট শামসুজ্জামান সুরুজ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. আনোয়ার হোসেন ও মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইব্রাহিম, ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী প্রকল্প পরিচালক সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আফসানা আনসারী, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট টাঙ্গাইল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মসউদ ইকবাল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আদিবা আফরিন রিম, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি এসএমএ ছোবহান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন সহ অন্যান্যরা উস্থিত ছিলেন।