, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: ‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজশাহীতে বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে মনি চত্বর ও মালোপাড়া হয়ে অলকার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নেন রাসিক প্রশাসক।
মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ডিমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’। প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালনের রীতি অনুযায়ী সারাবিশ্বে উদযাপিত হয়েছে এই দিবস। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক এগ কমিশন (আইইসি) আয়োজিত সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তের পর এটি দিবসটির ৩০তম আয়োজন।
দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ ডিম উৎপাদিত হলেও পুষ্টিচাহিদা পূরণে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ২০৮টিতে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে এ প্রাপ্যতা প্রায় ১৪০টি। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী চার বছরে মাথাপিছু প্রাপ্যতা আরও প্রায় ৬৮টি বাড়াতে হবে।
ডিম সহজলভ্য ও বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। শরীরের বৃদ্ধি, পেশি গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি ও সেলেনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
শিশু-কিশোরদের বৃদ্ধি ও বিকাশের সময় পর্যাপ্ত পুষ্টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্য তালিকায় ডিম অন্তর্ভুক্ত করা গেলে প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে সহায়তা হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও শরীরের পেশি বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে ডিম কার্যকর খাদ্য হতে পারে। তবে সুস্থ থাকতে শুধু ডিমের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, দুধ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রাজশাহীতে দিবসটিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. জুলফিকার মোহাম্মদ আক্তার হোসেন এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আয়োজকেরা জানান, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিমের অন্তর্ভুক্তি উৎসাহিত করা এবং সুস্বাস্থ্য গঠনে ডিমের ভূমিকা তুলে ধরাই দিবসটি উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য। ডিমের পুষ্টিগুণ, সুস্বাস্থ্য গঠনে ডিমের ভূমিকা এবং পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।