সর্বশেষ সংবাদ :

পবার নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে হালকা বা মাঝারি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগ পোয়াতে হয়। এতে উপজেলার মধ্যে একটি সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং যাতায়াতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই বিদ্যালয় মাঠে জমে হাঁটু পানি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে পানি জমে থাকায় বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। আবার পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কমে গেছে বলে জানা গেছে।
নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এবং নারীর অধিকার ও নারীকে মযর্দাশীল করার লক্ষে ১৯৯৩ সালের শেষের দিকে এই নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ। সময়ের দাবিতেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা থেকেই সুনাম অর্জন করে আসছে। বর্তমানে পবা উপজেলার মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে খুবই ভাল ফলাফল করে আসছে।
এই প্রতিষ্ঠানে দক্ষ, মেধাবি শিক্ষকগণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পাঠদান করে থাকেন। বর্তমানে ২২ শিক্ষক ও ৪জন কর্মচারি নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী (ছাত্রী) রয়েছে ১০২৪ জন। ২০২৪ সালে ১৭৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৬৭জন উত্তীর্ণ হয়। যার পাশের হার ৯৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে ১৭৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ হয়। যার পাশের হার ৮৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ১৬৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৩২জন উত্তীর্ণ হয়। যার পাশের হার ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ। এ বছর রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ছিল ৫৭ শতাংশের কিছু বেশী।
কয়েকদিন আগে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে জমে আছে। অথচ আগের দিন বা রাতে জলাবদ্ধতা হবে-এমন বৃষ্টিপাত হয়নি। এমন জলাবদ্ধতার এ সমস্যা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই হচ্ছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃস্টি হলেই বিদ্যালয় চত্তরে পানি জমে যায়। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি মাড়িয়ে ক্লাসে আসতে হয় শত শত শিক্ষার্থীকে।
ওই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফফাত জাহান স্মরণ বলে, বৃষ্টি হলেই আমাদের স্কুল মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। অনেক সময় পানিতে পড়ে গিয়ে আমাদের বই, জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আরেক শিক্ষার্থী বলে এমনিতেই আমাদের বিদ্যালয়ের জায়গা কম। বর্ষাকাল আসলেই স্যাত স্যাতে অবস্থা বিরাজ করে। অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা খেলাধুলা করতে পারি না।
আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বর্ষা বলেন, অনেক সময় পানির মধ্যে দিয়ে চলাচলের কারণে খোসপাঁচড়া, চুলকানিসহ নানা রোগ দেখা দেয়। এমনকি জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গু মশার আতঙ্কে থাকেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়।
নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামসুদ্দীন প্রামানিক বলেন, আগে বৃষ্টিপাত হলে পানি নেমে যেত। বিদ্যালয়ের পর্ব-উত্তর পাশ দিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বর্তমানে নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার কাজের জন্য পানি নামছে না। পৌর কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেননি। তিনি আবারো এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।


প্রকাশিত: September 20, 2026 | সময়: 3:51 am | সুমন শেখ

আরও খবর