ভরা মৌসুমে রাজশাহীতে সার সংকট

বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি: রাজশাহীসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে চলছে আমন ধানের ভরা মৌসুম। এ সময়ে ডিএপি ও এমওপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। ডিলারদের পাওয়া মাসিক বরাদ্দের সার অনেক ক্ষেত্রেই একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের। বাধ্য হয়ে অনেকে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে বিভিন্নভাবে সার সংগ্রহ করে আমন ক্ষেতে প্রয়োগ করছেন।
তবে কৃষি বিভাগের দাবি, মাঠপর্যায়ে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবের সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের বাস্তব চিত্রের মিল নেই। ডিলারদের দোকানে মাসে একদিন অল্প পরিমাণে সার বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম। ফলে অধিকাংশ কৃষকই সরকারি দামের সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স হাসিনা ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, আগস্ট মাসে বিএডিসি থেকে ডিলারটি ডিএপি ১৪০ বস্তা, এমওপি ২০০ বস্তা ও টিএসপি ৮৮ বস্তা বরাদ্দ পেয়েছে। এসব সার পৌর এলাকার ৯ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্য দেওয়া হয়। গত ১২ আগস্ট দুই ওয়ার্ডের রেজিস্টারে তালিকাভুক্ত ১৮৮ জন কৃষকের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। অথচ ওই দুই ওয়ার্ডে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন। ফলে অর্ধেকের বেশি কৃষক সার না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যান।
কৃষকদের অভিযোগ, দুই ওয়ার্ডে বরাদ্দের সার বিতরণ শেষ হয়ে যাওয়ায় চলতি মাসে তারা অন্য সরকারি ডিলারের কাছ থেকেও আর সার পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।
মুন্ডুমালা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়েনপুর গ্রামের কৃষক আপতাব হোসেন এ বছর ৩০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান চাষ করেছেন ১৫ বিঘা জমিতে। আগস্ট মাসের বরাদ্দের সার নিতে তারা হাসিনা ট্রেডার্সে গেলেও চাহিদামতো সার পাননি। পরে অন্য উপজেলা থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার সংগ্রহ করে জমিতে প্রয়োগ করেছেন বলে জানান তারা।
এমন চিত্র শুধু হাসিনা ট্রেডার্সের নয় বলে অভিযোগ কৃষকদের। তানোর উপজেলায় ২২টি বিএডিসি ও ৯টি বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। কৃষকদের দাবি, আগস্ট মাসে এসব ডিলারের কাছেও বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকায় অধিকাংশ কৃষক প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাননি। যারা পেয়েছেন, তারাও চাহিদার তুলনায় সামান্য পরিমাণ সার পেয়েছেন।
কৃষকেরা বলছেন, জুলাই ও আগস্ট মাস আমন ধানে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরবর্তী সময়ে সার প্রয়োগ করলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কাঙ্ক্ষিত কাজে আসে না।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসি ডিলাররা মাসে একবার বরাদ্দ পেলেও বিসিআইসি ডিলারদের ইউরিয়া ও ডিএপি সারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকে। তারপরও অনেক ডিলার মাসে একদিন সার বিতরণ করে কৃষকদের ফিরিয়ে দেন। এমনকি কোনো কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে ডিএপি নিতে গেলে সঙ্গে দুই-তিন বস্তা ইউরিয়া নেওয়ার জন্য কৃষকদের বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে ডিলারদের সঙ্গে কৃষকদের বাকবিতণ্ডা ও দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কৃষক।
মাঠপর্যায়ের একাধিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষকেরা অনেক সময় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সার ব্যবহার করছেন না। একটি জমিতে একবার ডিএপি প্রয়োগ করার পর পরবর্তী সময়ে শুধু ইউরিয়া ব্যবহার করলেই হয়। কিন্তু অনেক কৃষক তা না মেনে বারবার ডিএপি সারের পেছনে ছুটছেন।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, সার সংকট নেই। তবে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী চলতি মাসে পুনরায় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।


প্রকাশিত: August 23, 2026 | সময়: 5:43 am | সুমন শেখ