, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁ জেলার ভিমপাড়া গ্রামে ভূমিপুত্র আলফ্রেড সরেনের শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটি, অধিকারভিত্তিক উত্তরবঙ্গ জোট এবং সিসিবিভিও, রাজশাহীর প্রতিনিধিবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। মঙ্গলবার শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ শেষে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সকল শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হয়। দিবস পালনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিভিও’র সভাপতি অধ্যাপক আবদুস সালাম, নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, রক্ষাগোলা মডেলের সমন্বয়কারী আরিফ ইথার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার সুজন ও উর্ধতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী। রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সুধীর সরেন, সিষ্টি বারে, ধনাই সরেন ও জুলিতা মুর্মু। অধিকারভিত্তিক উত্তরবঙ্গ জোটের অন্যতম সদস্য মেরিনা হাঁসদা ও থাদিয়াস বিশ্বাস।
২০০০ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে নওগাঁ জেলার ভিমপুর গ্রামে প্রায় ৪৬০ বিঘা জমি নিয়ে সাঁওতাল ও প্রভাবশালী কিছু বাঙালিদের ভেতর এক ভূমি-বিবাদ তৈরী হয়। স্থানীয় পিযূষ ভট্টাচার্য ও সীতেশ ভট্টাচার্য নওগাঁর এক ধনী পরিবার; তাদের মামাদের ফেলে যাওয়া অনেক জমিজমা একটা সময় ‘২নং খাস খতিয়ান’ হয়ে যায়! এইসব জমি নিজেদের দখলে রাখার নিমিত্তে তারা ভূমিহীন আদিবাসীদের ব্যবহার করেন। বিভিন্ন জায়গার আদিবাসীদের বলা হয় ভীমপুরে গিয়ে চাষাবাদ করলে প্রতি পরিবারকে পাঁচ বিঘা করে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হবে। ভীমপুরে এসে ১৩ সাঁওতাল পরিবার শুরু করেন চাষাবাদের এক কঠিন সংগ্রাম ও পীযূষ ভট্টাচার্যদের কাছ থেকে পান ১২০ বিঘা বরেন্দ্রভূমি। সাঁওতালেরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এইসব জমিতে আবাদ ও বসবাস করে আসছিলেন। এলাকার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাতেম আলী সাঁওতালদের উচ্ছেদ শুরু করে। এই চক্রান্তে যুক্ত হন সীতেশ ভট্টাচার্য (গদাই লস্কর নামে পরিচিত)। তাদের মূল লক্ষ্য সাঁওতালদের ৪৬০ বিঘা আবাদী শস্যফলা জমিন।
ভূমি সুরক্ষায় সাঁওতালদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনে নামেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ভীমপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আলফ্রেড সরেন। ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট হাতেম আলী ও সীতেশ ভট্টার্চাদের ভাড়াটে দল সশস্ত্র আক্রমন করে ভীমপুর সাঁওতাল গ্রামে। এই উচ্ছেদ আক্রমন ঠেকাতে আলফ্রেডের নেতৃত্বে জোৎস্না সরেন, রেবেকা সরেন, বিশ্বনাথ বেসরা, সুবল বেসরা, কমল সরেন, দেবেন সরেন, অনিল সরেন ও শ্রীমন্ত হেম্ব্রমরা গ্রামবাসীদের নিয়ে রুখে দাঁড়ান। আক্রমনকারীদের আঘাতে ৩২ বছর বয়সে নিহত হন আলফ্রেড সরেন। আহত ও জখমপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। স্থানীয় সূত্র মোতবেক ১৮ আগষ্ট, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে বেলা ১২টার দিকে নওগাঁ-মহাদেবপুর সড়কের চৌমাসিয়ার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় আদিবাসীরা। সবাই জড়ো হয় সেখানে। এরমধ্যেই আলফ্রেড নিজের বাড়ি যান। এলাকাটি সেসময় ছিল মানবশূন্য। তিনি বাড়ি যেতেই সন্ত্রাসীরা হামলা করতে উদ্যত হয়। বুঝতে পেরে তিনি নিজের ঘর ছেড়ে অন্য বাড়ি আশ্রয় নেন। সন্ত্রাসীরা সেই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে তিনি বেরিয়ে আসেন। আর তখনই ঘাতকরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। সেদিন তার বোন ও মেয়ে দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকায় বেঁচে যান। তবে তার স্ত্রী জোছনার চোখ জখম হয়।