সর্বশেষ সংবাদ :

পবায় মোতালেব-সানজুয়ারা পরিবারকে দেওয়া হলো ঢেউটিন

স্টাফ রিপোর্টার: একসময় বৃষ্টি নামলেই আতঙ্ক নেমে আসত মোতালেব-সানজুয়ারা বিবির পরিবারে। টিনের ফুটো ছাউনি দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ত ঘরের ভেতর। কোথাও হাঁড়ি, কোথাও পাতিল, কোথাও আবার বালতি রেখে সেই পানি সামলানোর চেষ্টা চলত। শেষ পর্যন্ত ভেজা বিছানায় রাত কাটানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকত না। তাদের এই দুঃখ ঘোচাতে সোমবার দেয়া হলো ঢেউটিন। তাদের চার বান্ডিল ঢেউটিন তুলে দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইবনুল আবেদীন।
একসময় বাঁশের ভারী কাজ করে সংসার চালাতেন মোতালেব। প্রায় ১০ বছর আগে কাজ করতে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মেরুদণ্ডে জটিল সমস্যা হয়েছে। এরপর থেকেই প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে স্ত্রী সানজুয়ারা বিবি ও ছোট ছেলে মিঠুন হোসেনের কাঁধে। অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেই কোনো রকমে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা হতো। কিন্তু ভাঙা ঘর মেরামত কিংবা নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার সামর্থ্য কখনোই হয়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোতালেব বলেন, “বৃষ্টির রাতে ঘরের ভেতরে ছাতা ধরে বসে থেকেছি। পানি আটকাতে হাঁড়ি-পাতিল রেখেছি। অনেক সময় ভেজা বিছানাতেই রাত কাটাতে হয়েছে। মনে হতো, এই ঘর কোনো দিন আর ঠিক করতে পারব না। ইউএনও স্যার চার বান্ডিল টিন, ১২ হাজার টাকা আর পানির পাম্প দিয়েছেন। জীবনে যে স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি, তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করে দিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর জন্য দোয়া করব।”
তিন শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট বাড়িটিতে তিনটি কক্ষ। একটি ঘরের মাটির দেয়াল অনেক আগেই ধসে পড়েছে। সেই ভাঙা ঘরেই থাকেন মোতালেব ও তাঁর স্ত্রী। বারান্দায় থাকে ছোট ছেলে, আর পাশের ঘরে থাকেন অসুস্থ বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী। বড় ছেলে ফুসফুসের সমস্যায় ভারী কাজ করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র নিয়মিত উপার্জনকারী ছোট ছেলে মিঠুন। সংসারের অভাব মেটাতে সানজুয়ারা বিবিকেও প্রতিদিন অন্যের জমিতে মরিচ, বেগুন, লাউ, করলা কিংবা অন্যান্য সবজিক্ষেতে শ্রম বিক্রি করতে হয়।
পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “সানজুয়ারা বিবি সহযোগিতার আবেদন করেছিলেন। পরে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বাস্তব অবস্থা দেখে ঘর মেরামতের জন্য চার বান্ডিল টিন, ১২ হাজার টাকা ও একটি সাবমার্সিবল পানির পাম্প দেওয়া হয়েছে। একজন মানুষের মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার। প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলার কোনো অসহায় মানুষ যেন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষও যদি এমন পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তাহলে আরও অনেক ভাঙা ঘরে নতুন স্বপ্নের আলো জ্বলবে।”


প্রকাশিত: August 4, 2026 | সময়: 4:10 am | সুমন শেখ