গতির মুকুট এখন এসেমে ও হবসের মাথায়

স্পোর্টস ডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে দেখা গেল এক নতুন বাস্তবতা। বহু বছর ধরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে জ্যামাইকার যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য ছিল, এবার সেখানে উঠে এসেছে নতুন দুই নাম– ক্যামেরুনের এমানুয়েল এসেমে ও নিউজিল্যান্ডের জোয়ে হবস। পুরুষ ও নারী বিভাগের ১০০ মিটার জিতে তারা নিজেদের দেশের জন্য গড়েছেন নতুন ইতিহাস।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পুরুষদের ১০০ মিটার ফাইনালে দুর্দান্ত দৌড়ে স্বর্ণ জিতেছেন এমানুয়েল এসেমে। ৯.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি শুধু শিরোপাই জেতেননি, গড়েছেন কমনওয়েলথ গেমসের নতুন রেকর্ডও। শেষ মুহূর্তে গতি বাড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন ২৯ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার।
বার্মিংহাম ২০২২ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী এসেমে এর আগে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের ফাইনালেও অংশ নিয়েছিলেন। গ্লাসগোতে এসে সেই অভিজ্ঞতাকে স্বর্ণপদকে রূপ দিলেন তিনি। পুরুষদের ফাইনালে ৯.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রৌপ্য জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার লাচলান কেনেডি। একইসঙ্গে তিনি গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নতুন জাতীয় রেকর্ড। ইংল্যান্ডের জেরেমায়া আজু ৯.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন।
অন্যদিকে নারীদের ১০০ মিটারেও জন্ম নিয়েছে নতুন এক অধ্যায়। নিউজিল্যান্ডের জোয়ে হবস ১০.৯৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জিতে দেশের অ্যাথলেটিকস ইতিহাসে আরও একটি মাইলফলক যোগ করেন। দৌড় শেষে ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ২৮ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রথম নারী হিসেবে ১১ সেকেন্ডের বাধা ভেঙে আলোচনায় আসেন হবস। গ্লাসগোর সাফল্য তার ধারাবাহিক উন্নতিরই প্রতিফলন।
নারীদের ফাইনালে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন সেন্ট লুসিয়ার জুলিয়েন আলফ্রেড রৌপ্য জিতেছেন। ব্রোঞ্জ গেছে ইংল্যান্ডের ড্যারিল নীতার ঝুলিতে। তবে এবারের ১০০ মিটারের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল জ্যামাইকার অনুপস্থিতি। পুরুষ ও নারী– উভয় বিভাগের পদক মঞ্চেই দেখা যায়নি কোনো জ্যামাইকান স্প্রিন্টারকে। দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পর এমন দৃশ্য স্প্রিন্ট বিশ্বের জন্য এক ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
তবে জ্যামাইকা পুরোপুরি হতাশ হয়নি। ১১০ মিটার হার্ডলসে ২১ বছর বয়সী ডিমারিও প্রিন্স স্বর্ণপদক জিতেছেন। এছাড়া রোমেইন বেকফোর্ড ২.২৫ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে কমনওয়েলথ গেমসে জ্যামাইকার প্রথম হাই জাম্প স্বর্ণ এনে দিয়েছেন। গ্লাসগোর ট্র্যাক তাই নতুন এক বার্তাই দিয়েছে– স্প্রিন্টের মঞ্চে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত শক্তির পাশাপাশি নতুন দেশ ও নতুন মুখও এখন বিশ্ব গতির প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে কমনওয়েলথ গেমসের দ্রুততম মানব ও মানবীর খেতাব জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এমানুয়েল এসেমে ও জোয়ে হবস।
আরও একটি ফাইনালের সামনে মেসি, নতুন শিরোপারও হাতছানি
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপের পরপরই আবারও একটি ফাইনাল খেলার সুযোগ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিয়ামি মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর লিগা এমএক্স চ্যাম্পিয়ন ক্রুজ আজুলের। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মাইকেলব আল্ট্রা ক্যাম্পেওনেস কাপ ২০২৬-এর এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।
ক্যাম্পেওনেস কাপ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত এক ম্যাচের ফাইনাল। এবারের আসরটি হবে টুর্নামেন্টটির অষ্টম সংস্করণ। এখন পর্যন্ত ইতিহাসে লিগা এমএক্সের দলগুলোই বেশি সফল। মেক্সিকান ক্লাবগুলো জিতেছে চারটি শিরোপা, আর এমএলএসের ক্লাবগুলোর জয় করেছে তিনটি ট্রফি। সবশেষ ২০২৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তলুকা এফসি।
২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এমএলএস কাপের ফাইনালে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইন্টার মিয়ামি। সেই শিরোপা জয়ের সুবাদেই ক্যাম্পেওনেস কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ডেভিড বেকহ্যামের মালিকানাধীন ক্লাবটি।
অন্যদিকে, ক্যাম্পেওন দে ক্যাম্পেওনেস ম্যাচে তলুকাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মেক্সিকান ক্লাব ক্রুজ আজুল। ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালে ক্লাবটিকে ইতিহাসের প্রথম শিরোপা লিগস কাপ জেতান তিনি। এরপর ২০২৪ সালে জেতান এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড। ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেতান এমএলএস শিরোপা।
এবার ক্যাম্পেওনেস কাপ জিততে পারলে ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে আরেকটি ট্রফি যোগ হবে মেসির সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে। বিশ্বকাপ শেষে বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ফাইনাল খেলায় অংশ নেওয়ার কারণে সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলও ছুটিতে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের ফাইনালের আগেই দুজনই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে দলে ফিরবেন।
১৬ সেপ্টেম্বরের এই ম্যাচটি শুধু দুটি চ্যাম্পিয়ন দলের লড়াইই নয়, এটি হবে নতুন নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম কোনো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচও। এমএলএস ও লিগা এমএক্সের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে তাই বাড়তি আকর্ষণ যোগ হয়েছে। আর লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপের আক্ষেপ ভুলে যাওয়ার পাশাপাশি ইন্টার মিয়ামির হয়ে আরও একটি শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ। ৩৯ বছর বয়সেও ট্রফির ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, সেটি আরও একবার প্রমাণ করার মঞ্চ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।


প্রকাশিত: July 30, 2026 | সময়: 3:49 am | সুমন শেখ

আরও খবর